বিএসএফ-এর হাতে জমি তুলে দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি চিঠি গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার থেকে এ রাজ্যকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আইন আগের সরকার কাজে লাগায়নি। আমরা কার্যকর করলাম।
সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত নন যাঁরা, তাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে। তার পর তাঁদের দেশ থেকে বার করে দেওয়া হবে। এই আইন আজ থেকে কার্যকর হবে।
কয়েক দশক ধরে সীমান্তে বিএসএফ-এর সঙ্গে কোনও বৈঠক হয়নি। নিয়মিত তা হওয়ার কথা। নতুন সরকার আসার পর ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক করা হয়ে গিয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত এই বৈঠক হবে।
২৭ কিমি এলাকাকে সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হচ্ছে। এটা সূচনা হল। রাজ্যের দেশপ্রেমিক জনগণ এবং আমাদের দক্ষ আধিকারিকেরা কিছু দিনের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করবেন এবং সহযোগিতা করবেন।
ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ৪ হাজার কিমি। পশ্চিমবঙ্গে ২২০০ কিমি। বাকি রাজ্যে বিএসএফ-এর চাহিদা মতো জমি দেওয়া হয়েছে। আমাদের এই রাজ্যে ২২০০-র মধ্যে ১৬০০ কিমি কাঁটাতার রয়েছে। ৬০০ কিমি-তে কাঁটাতার সম্পূর্ণ করা যায়নি। ৫৫৫ কিমি-তে চাইলেই সরকার জমি দিতে পারত। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তুষ্টিকরণের জন্য দেওয়া হয়নি।
আইনশৃঙ্খলাজনিত অপরাধ, লাভ জিহাদ, বলপূর্বক ধর্মান্তর, নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে যে ধরনের অসামাজিক কাজকর্মের বৃদ্ধি আমরা লক্ষ্য করেছি, যাঁরা তার সঙ্গে যুক্ত হিসাবে ধরা পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে বড় অংশ বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।
দু’সপ্তাহের মধ্যে জমি বিএসএফ-কে দেওয়া হবে। আমাদের আমলারা জমির একটা অংশ দিয়ে দিতে প্রস্তত। প্রাথমিক ভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে রাজ্যের কাছে আগেই জমি চেয়েছিল বিএসএফ। আগের সরকার তা দেয়নি। তাই আমাদের প্রিয় রাজ্য খুব ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
বিএসএফ-এর তরফে একটি ফুলের তোড়া এবং স্মারক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
শুভেন্দু জানিয়েছিলেন ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের কাজ করতে হবে ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পরেই বিজেপি সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিয়েছে। তা নিয়েই বুধবারের সাংবাদিক বৈঠক।