Howrah Municipal Corporation

হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পাশ হয়ে গেল বিধানসভায়, ৫০ থেকে ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে হবে ৬৬! ভোটের জট খুলবে কি?

বিলটি বিধানসভায় পাশ হওয়ায় তা যাবে লোক ভবনে রাজ্যপালের কাছে। তিনি এই বিলে অনুমোদন দিলে হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ৬৬টি ওয়ার্ড করা হবে। ২০১৮ সাল থেকে হাওড়া পুরসভার ভোট আটকে রয়েছে আইনি জটিলতায়। শেষ বার হাওড়া পুরসভায় ভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:১২
Share:

হাওড়া পুরসভার ভোট সংক্রান্ত জটিলতা কাটবে কবে? —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল। এই বিল পাশের পর হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে হবে ৬৬টি। শনিবার বিধানসভার দ্বিতীয়ার্ধে হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত বিলটি পেশ করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এই বিলের সপক্ষে বলেন মন্ত্রী ফিরহাদ ছাড়াও হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। বিজেপির পক্ষে এই বিলে মতামত দেন দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ সাহা। বিজেপি বিধায়ক অনুপ এই বিলকে স্বাগত জানান। তবে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘২০১৮ সাল থেকে কেন হাওড়া পুরসভায় ভোট হয়নি, তা রাজ্য সরকারের জানানো উচিত। বালিকে কেন হাওড়া পুরসভার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল? কেন আবার হাওড়া থেকে বালিকে আলাদা করা হল? হাওড়ার উন্নয়ন যাতে কাগজে-কলমে থেকে না যায়, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।’’

Advertisement

বিলের সপক্ষে তৃণমূল বিধায়ক গৌতম বলেন, ‘‘পুরনো বামপন্থীরা বলছেন দীর্ঘ দিন বাম সরকার যা পারেননি আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা করে দেখিয়েছেন। তাই তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। কলকাতা যদি পারে ১০০ থেকে ১৪৪টা ওয়ার্ড করতে, হাওড়া কেন ৫০টি ওয়ার্ড থেকে ৬৬টি করতে পারবে না।’’ জবাবি ভাষণে ফিরহাদ বলেন, ‘‘আমাদের সরকারের কাছে হাওড়া শহর খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওই শহরেই আমাদের রাজ্যের সচিবালয়। যাঁরা বলছেন তৃণমূলের বিসর্জন, ইসবার ২০০ পার, তারাই পগারপার। নবান্নের ১৪তলা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বাংলার উন্নয়ন করবেন। এটা ঠিক, আইনি জটিলতায় বার বার চেষ্টা করেও আমি পারিনি। ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এটা রাজভবনে আটকে ছিল।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হাওড়ায় পুর পরিষেবা খারাপ নয়। ২০১১ সালে আমরা এসে যা পেয়েছিলাম, তার থেকে অনেক পরিবর্তন আমরা করেছি। আমরা রাস্তাঘাটের সংস্কার করেছি। হাওড়া শহরকে মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব দেন। এর পর আশা করি হাওড়ায় ভোট সংক্রান্ত জটিলতা আমরা কাটাতে সফল হব।’’

বিলটি বিধানসভায় পাশ হওয়ায় তা যাবে লোক ভবনে রাজ্যপালের কাছে। তিনি এই বিলে অনুমোদন দিলে হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ৬৬টি ওয়ার্ড করা হবে। ২০১৮ সাল থেকে হাওড়া পুরসভার ভোট আটকে রয়েছে আইনি জটিলতায়। শেষ বার হাওড়া পুরসভায় ভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৫ সালে বালি পুরসভাকে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় বালি পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ১৬টি ওয়ার্ড তৈরি করে তা জুড়ে দেওয়া হয়েছিল হাওড়া পুরসভায়। কিন্তু ২০২১ সালে নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় হাওড়া পুরসভার সংশোধনী বিল এনে আবার বালি ও হাওড়াকে পৃথক করে দেওয়া হয়। তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় হাওড়া পুরসভার বালি-অংশে কত পরিমাণ অর্থ খরচ করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু প্রশ্ন তুলে দেন। এই নিয়ে নবান্নের সঙ্গে তৎকালীন রাজভবনের টানাপড়েন শুরু হয়েছিল।

Advertisement

আর এ বার সব টানাপড়েন শেষ করে নতুন করে আইন সংশোধন করে হাওড়া পুরসভাকে নতুন রূপ দেওয়া হবে। যেখানে ৬৬ টি ওয়ার্ড থাকবে। এই বিলে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস অনুমোদন দিলেই তা আইনে পরিণত হবে। পরে ডিলেমিটেশনের মাধ্যমে ৬৬টি ওয়ার্ড তৈরি হয়ে গেলে হাওড়া পুরসভায় ভোটের রাস্তা প্রশস্ত হয়ে যাবে বলেই মনে করছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement