Jammu-Kashmir Terror Attack

বিমার টাকা নিয়ে ভুয়ো খবর, সরব ভূস্বর্গে স্বামীহারা

ভূস্বর্গে নিহত পর্যটক সমীর গুহের স্ত্রী শবরী এ বার তাঁদের টাকা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবন বিমা নিগমের (এলআইসি) বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ আনলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৫ ০৭:৫৭
Share:

পহেলগামে জঙ্গি হামলায় নিহত সমীর গুহের স্ত্রী শবরী গুহ এবং তাঁর ভাই। সখেরবাজারের ফ্ল্যাটে সাংবাদিক সম্মেলনে। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য।

পহেলগামে চোখের সামনে জঙ্গিদের গুলিতে স্বামীকে হারানোর ক্ষত এখনও টাটকা তাঁর কাছে। ভূস্বর্গে নিহত পর্যটক সমীর গুহের স্ত্রী শবরী এ বার তাঁদের টাকা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবন বিমা নিগমের (এলআইসি) বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ আনলেন। রবিবার শবরী বলেন, ‘‘ঘটনার তিন দিনের মধ্যে আমরা প্রাপ্য এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা পেয়েছি। কিন্তু এলআইসি আমাদের এক কোটি ৭০ লক্ষ টাকা দিয়েছে বলে সমাজমাধ্যমে কেউ দাবি করেছে। ভুয়ো খবরটি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও ছড়িয়েছে। অত টাকা আমাদের নেই। এ সব রটনায় আতঙ্কে আছি।’’ বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথাও ভাবছে ওই পরিবার। তবে জীবন বিমা নিগমের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এই পরিস্থিতির পিছনে তাঁদের কোনও দায় নেই বলে দাবি করেছেন।

তাঁদের বাড়িতে এ দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শবরী ও তাঁর ভাই সুব্রত ঘোষ। সুব্রত বলেন, ‘‘ঘটনার তিন দিনের মধ্যে ‘সেট্‌লমেন্ট’ করে দিদিকে (শবরী) এক কোটির বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর পিছনে এক জন এজেন্টের হাত থাকতে পারে।’’ সুব্রত জানান, ঘটনার তিন দিনের মধ্যে এলআইসি-র এজেন্ট পরিচয় দিয়ে দেবাশিস বাগ নামে এক ব্যক্তি শবরীর বাড়িতে আসেন। বিমা ‘সেট্‌লমেন্টের’ জন্য বাড়িতে ঢুকে ওই পরিবারের অনেকের তিনি ছবিও তোলেন। এলআইসি-র সরশুনা শাখার অফিসের আধিকারিকদেরও ওই ব্যক্তি ছবি পাঠিয়েছিলেন বলে শবরী এবং তাঁর ভাই দাবি করেছেন।

এলআইসি-র কলকাতা মেট্রো ডিভিশন-২ এর সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার মনোজকুমার পাত্র বলেন, ‘‘নিহত ব্যক্তির দু’টি পলিসি ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির প্রাপ্য ছিল ১০ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। আমরা দ্রুত তা মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর কিছু জানা নেই।’’

সংশ্লিষ্ট যে এজেন্টের বিরুদ্ধে পরিবারটির ক্ষোভ, সেই দেবাশিস বাগও এ দিন বলেন, ‘‘এই বিষয়ে আমি কোথাও কাউকে কিছু বলিনি বা সমাজমাধ্যমে লিখিনি। কারা ভুল তথ্য রটাল বা বিভ্রান্তি ছড়াল— সত্যি আমি জানি না।’’

পহেলগামের ঘটনার কথা এ দিন ফের উঠে আসে শবরীর কথায়। স্বামীকে হারানোর জন্য গোয়েন্দা ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন তিনি। ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ধরে গুলি চললেও কেউ পরিস্থিতি সামলাতে আসেননি বলে শবরী অভিযোগ করেন। ঘটনার দিন কিছু ক্ষণ আগেই উপত্যকায় আসে পরিবারটি। শবরীর কথায়, ‘‘প্রথমে কিছু ক্ষণ এটা গুলির শব্দ বলে বুঝতেই পারিনি। স্থানীয় লোক জন বার বার আমাদের শুয়ে থাকতে বলছিলেন। সেই মত আমরা তিন জন শুয়েই ছিলাম। হঠাৎ এক জন এসে আমার স্বামীকে গুলি করে।’’

কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা করা সাহায্যের অঙ্ক তাঁরা পেয়েছেনবলে এ দিন গুহ পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন