TMC Split

তৃণমূলে তুঙ্গে দল দখলের যুদ্ধ! মমতা-পক্ষ কমিশনকে চিঠি দেওয়ার পরের দিনই সিইও দফতরে যাচ্ছেন ঋতব্রতেরা

সোমবার ঋতব্রতদের বৈঠকের পরে রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন দাবি করে জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা দিয়েছিলেন কমিশনে। তার পরেই তৎপরতা বৃদ্ধি করে ঋতব্রত শিবির।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১৫:০৯
Share:

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

নিউ টাউনের বিলাসবহুল হোটেলে সোমবার বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়েই ‘তৃণমূলের’ জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করে ফেলেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। মঙ্গলবার আরও আগ্রাসী হয়ে তৃণমূল দখলের পথে এগোচ্ছেন তাঁরা। বিধানসভার অধিবেশন শেষ হওয়ার পরে তাঁরা যাবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে।

Advertisement

সোমবার ঋতব্রতদের বৈঠকের পরে রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন দাবি করে জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনে। তার পরেই তৎপরতা বৃদ্ধি করে ঋতব্রত শিবির। গত ৫ জুন তৃণমূলের বৈঠকে জাতীয় কর্মসমিতিতে রদবদল করা হয়। তার পরে দেখা যায় অনেকে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ফের তালিকা পরিমার্জন করে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসদের নাম বাদ দেন মমতা। যুক্ত করেন রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নাম। তার পর সেই তালিকা পাঠানো হয় কমিশনে।

ঋতব্রতেরা সোমবার সর্বভারতীয় তৃণমূলের ‘বিশেষ অধিবেশন’ ডেকেছিলেন। জেলা থেকে আসা বহু নেতা যোগ দিয়েছিলেন বৈঠকে। সেখান থেকে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূলের’ চেয়ারম্যান করা হয়। ৩০ জনের জাতীয় কর্মসমিতিও গঠন করা হয়েছে। মমতার তালিকার পাল্টা মঙ্গলবার নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি জানাতে সিইও দফতরে যাবেন ঋতব্রতেরা।

Advertisement

আইনত ঋতব্রতেরা এ ভাবে দলের দখল নিতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘‘ওঁদের কোনও এক্তিয়ার নেই।’’ পাল্টা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বলেছেন, ‘‘কুণাল ঘোষ নির্বাচন কমিশন নন। আমরা যা করেছি আইন মেনে, নিশ্ছিদ্র ভাবে করেছি।’’ সোমবারের বৈঠকে যাওয়া অনেক নেতাই জানিয়েছেন, আইনি মোড়ক দিয়েই তাঁদের হাজিরায় সই করানো হয়েছে। নেপথ্যে কজ করেছে দিল্লি থেকে আসা দুই পাকা মাথা।

ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করতে ঋতব্রতেরা থানায় অভিযোগ করেছিলেন। যার ভিত্তিতে লেনদেন বন্ধও করে দিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শুরু হয়েছে সেই টাকা নিয়ে। এর পর সরাসরি দলের দখল নেওয়ার দিকে অগ্রসর হলেন ঋতব্রতেরা। সোমবারের বৈঠকের পর মঙ্গলে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনে।

কালীঘাটের তৃণমূলে ক্রমশ লোকসংখ্যা কমছিল। মমতার আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত ফিরহাদ-অরূপেরাও তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে দু’দিন আগেই দল ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু)। মঙ্গলবার সেই বালুও বিধানসভায় ঋতব্রতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এখন সিইও দফতরে গিয়ে ঋতব্রতেরা কী কী নথি জমা দেন, পরবর্তী ধাপেই বা কী হয়, নজর থাকবে সে দিকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement