No Confidence against Speaker

কংগ্রেস শর্ত মানলে তবেই লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই! জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক

চলতি অধিবেশনে কংগ্রেসের সঙ্গে কক্ষ সমন্বয়ের প্রশ্নে তৃণমূলের সেই সখ্য দেখা যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছিল, তৃণমূল কি অনাস্থা প্রস্তাবের প্রশ্নে কংগ্রেসের সঙ্গে সচেতন দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে? অভিষেক বুঝিয়ে দিলেন, কংগ্রেস যে ভাবে বলবে, সে ভাবে তৃণমূল চলবে না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩০
Share:

(বাঁ দিকে) রাহুল গান্ধী, ওম বিড়লা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কংগ্রেস যে অনাস্থা প্রস্তাব আনার দৌত্য শুরু করেছে, সে সম্পর্কে তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার দলনেতা হিসাবে অভিষেক মঙ্গলবার জানালেন, কংগ্রেস যে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চায় তাতে তৃণমূলের সাংসদদের সই করতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তার আগে বিজেপি-বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’-ভুক্ত দলগুলির যৌথ বিবৃতি দাবি করেছেন অভিষেক। জানিয়ে দিয়েছেন, সে প্রক্রিয়া মানলে তবেই তৃণমূল তাতে সই করবে।

Advertisement

অভিষেক মঙ্গলবার বলেন, ‘‘স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করতে আপত্তি নেই। ‘ইন্ডিয়া’র দলগুলো সই করে একটা চিঠি লোকসভার স্পিকারকে দিক। যে চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে অনাস্থা প্রস্তাব আনার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলিই লিখিত ভাবে জানানো হোক স্পিকারকে। তিনি তিন দিনের মধ্যে সদুত্তর না-দিলে, তার পর শুক্রবার অনাস্থা প্রস্তাব আনা হোক।’’

চলতি বাজেট অধিবেশনে কংগ্রেসের সঙ্গে কক্ষ সমন্বয়ের প্রশ্নে তৃণমূলের সেই সখ্য দেখা যাচ্ছে না। সেই সূত্রেই প্রশ্ন উঠছিল, তৃণমূল কি অনাস্থা প্রস্তাবের প্রশ্নে কংগ্রেসের সঙ্গে সচেতন দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে? অভিষেক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কংগ্রেস যে ভাবে বলবে সে ভাবে তৃণমূল চলবে না। তাদেরও স্বাধীন বক্তব্য রয়েছে। কেন এ কথা তিনি বলছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। অভিষেকের কথায়, ‘‘কংগ্রেসের ৮ জন সাংসদকে স্পিকার নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করেছেন। চিঠি দিয়ে বলা হোক তা প্রত্যাহার করতে। তিন দিন সময় দেওয়া হোক। না-করলে তখন আনা হোক অনাস্থা প্রস্তাব।’’ অভিষেকের আরও সংযোজন, ‘‘এটাই তো নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমাদের পার্থক্য। ভুল করলে তাঁকে সুযোগ তো দিতে হবে।’’

Advertisement

তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা হিসাবে অভিষেক এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যদি চিঠি দিয়ে, তিন দিন সময় দিয়ে কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাব আনে, তৃণমূল তাতে সই করবে। কিন্তু যদি মঙ্গলবারই তড়িঘড়ি কংগ্রেস এই প্রস্তাব আনতে চায়, তা হলে তাতে তৃণমূল সই করবে না।

কংগ্রেসের পদক্ষেপে আপত্তি নেই জানিয়েও তৃণমূলের এই শর্ত দেওয়াকে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী পরিসরের সমীকরণে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে অভিমত অনেকের। তাঁদের বক্তব্য, বাজেট অধিবেশনে তৃণমূল সলতে পাকাতে শুরু করেছে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার বিষয়ে। কিন্তু সে ব্যাপারে কংগ্রেস, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী তেমন ‘উৎসাহ দেখাননি’। সেই সূত্রেই অনেকে মনে করছেন, লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ‌অনাস্থা প্রস্তাবের দৌত্যে তৃণমূলও শর্ত চাপিয়ে রাখল। একইসঙ্গে কৌশলে জুড়ে নিতে চাইল ‘ইন্ডিয়া’-ভুক্ত দলগুলিকেও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement