শুভেন্দু অধিকারী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সেবাশ্রয় প্রকল্প দিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রামে ভোট লড়াইয়ের কৌশল নিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এ বার জোড়া কোর কমিটি করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অধিকারীদের ঘাঁটি বলে পরিচিত কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা দখলের প্রস্তুতি শুরু করে দিল শাসকদল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তৃণমূলের তরফে কাঁথি-১ ও কাঁথি টাউন এলাকায় তৃণমূলের নতুন কোর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কাঁথি পুরসভা এলাকাতেই অধিকারী পরিবারের আদি বাড়ি শান্তিকুঞ্জ। সেই বাড়িতে যৌথ পরিবারে বাস করেন অধিকারীরা। সেই টাউনের নয়া কোর কমিটিতে রাখা হয়েছে কাঁথি শহরের চার জন নেতাকে। কাঁথি টাউন ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি সুরজিৎ নায়েক ছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন কাউন্সিলর আলেম আলি খান, রত্নদীপ মান্না এবং তনুশ্রী চক্রবর্তী ভট্টাচার্য। যদিও টাউনের মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী ইলা মান্নার নাম পৃথক ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
কাঁথি-১ ব্লক ও কাঁথি পুর এলাকা নিয়ে কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা গঠিত হয়েছে। সেই ব্লকের কমিটিতেও জায়গা দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন সভাপতি সুনীত পট্টনায়ককে। এ ছাড়াও রয়েছেন নীলাদ্রি মাইতি, প্রকাশ মণ্ডল ও রামগোবিন্দ দাস। এ ক্ষেত্রেও সোমা মিশ্রের নাম ব্লক সংগঠনের মহিলা সভানেত্রী হিসাবে পৃথক ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে চমকপ্রদ ফল করেছিল তৃণমূল। যে যে এলাকায় বিজেপি দাগ কাটে তার মধ্যে কাঁথি দক্ষিণ অন্যতম। অধিকারী পরিবারঘনিষ্ঠ প্রাক্তন শিক্ষক অরূপ কুমার দাসকে টিকিট দিয়েছিল পদ্মশিবির। সেই ভোটে প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতির্ময় করকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি-র অরূপ। এই আসনে ফের প্রার্থী হতে পারেন বর্তমান বিধায়ক। এ বার এই আসনটি জিততে মরিয়া তৃণমূল। গত বছর কাঁথি-১ ও কাঁথি টাউন তৃণমূলের দু’টি কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে সংগঠন তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। আর ভোটের মাস দু’য়েক বাকি থাকতে দক্ষিণ কাঁথির জন্য দু’টি পৃথক কোর কমিটি গঠন করে আবার সাংগঠনিক কাজ শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাচক্রে, কাঁথি লোকসভার বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী সম্পর্কে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর ভাই এবং প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারীর ছোট ছেলে। ২০০৯ সাল থেকে পরপর তিন বার এই আসন থেকে তৃণমূলের প্রতীকে সাংসদ হন শিশির। ২০২০ সালে শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করলে সাংসদ শিশিরের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। আর ২০২৪ সালে শিশিরের ছেড়ে যাওয়া আসনে সৌমেন্দুকে প্রার্থী করে বিজেপি। ৪৭ হাজারের বেশি ভোটে তৃণমূল প্রার্থী উত্তম বারিককে হারিয়ে কাঁথি লোকসভায় প্রথম বারের জন্য পদ্ম ফুল ফুটিয়েছেন সৌমেন্দু। সেই ভোটেও কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রে এগিয়ে ছিলেন সৌমেন্দু। তা ছাড়া অধিকারী পরিবারের আর এক সদস্য দিব্যেন্দুকেও বিধানসভায় পাঠিয়েছেন কাঁথি দক্ষিণের ভোটারেরা। এমন একটি আসনে অধিকারী পরিবারকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলাই তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্বের অন্যতম লক্ষ্য।
তৃণমূলের এই জোড়া নতুন কোর কমিটি প্রসঙ্গে কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ‘‘এই দু’টি কমিটিতে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য না থাকলেও, তাঁর পছন্দের ছাপ স্পষ্ট। তাই আমরা ধরেই নিচ্ছি, যিনি দক্ষিণ কাঁথিতে তৃণমূলের প্রতীকে প্রার্থী হবেন, তিনি অখিলবাবুর ঘনিষ্ঠই কেউ হবেন।’’ প্রসঙ্গত, বর্তমানে কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি অখিলের পুত্র। অন্য দিকে, তৃণমূলের ডোমকল ব্লক ও ডোমকল টাউনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাঁকুড়ার কোতলপুরের যুগ্ম আহ্বায়কদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে।