কয়লার দাম বেড়েছে। বেড়েছে কেন্দ্রীয় কর। তার জেরে বণ্টন সংস্থার এলাকায় শীঘ্রই বাড়তে চলেছে বিদ্যুতের মাসুল। সংস্থা সূত্রের খবর, মাসুল বাড়তে পারে ইউনিট-পিছু ৩০ পয়সা করে। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার এলাকায় এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ছ’টাকা ৫৫ পয়সা।
কেন বাড়ানো হচ্ছে বিদ্যুতের দাম? বিদ্যুৎ দফতর সূত্রের ব্যাখ্যা, কয়লার দাম এবং কেন্দ্রীয় কর বাড়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগমের উৎপাদন খরচ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তার সঙ্গে তাল রাখতেই নিগম-কর্তৃপক্ষ মাসুল বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে। মূলত নিগমের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনেই বণ্টন সংস্থা (সিইএসসি এলাকার বাইরে) রাজ্যের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ পরিষেবা দেয়। তাই তাদের বিদ্যুৎ-মাসুলও বাড়বে।
কিন্তু বিদ্যুতের দাম বাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হল কেন?
এই মাসুল বৃদ্ধির পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় নীতিকেই দায়ী করেছেন রাজ্যের বিদ্যুৎকর্তারা। এক বিদ্যুৎকর্তা জানান, কয়লার উপরে সেস টন-পিছু ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এখন ৪০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যে-পরিষেবা কর ২০১১-’১২ আর্থিক বছরে ছিল ১০.৩৩ শতাংশ, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৫ শতাংশ। বৃদ্ধি প্রায় পাঁচ শতাংশ। রেলের শুল্কের উপরেও পরিষেবা কর চাপানো হয়েছে। কয়লার পরিবহণ হয় রেলেই। সেখানে পরিষেবা শুল্ক চাপানোয় ইউনিট-পিছু দু’পয়সা এমনিতেই বেড়ে যাচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। ওই বিদ্যুৎকর্তা বলেন, ‘‘এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কয়লার দাম। কোল ইন্ডিয়ার কয়লার দাম গড়ে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই নিগম-কর্তৃপক্ষ ৩০ পয়সা মাসুল বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।’’
বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন সূত্রের খবর, নিগমের মাসুল বৃদ্ধির প্রস্তাব তাদের কাছে পৌঁছেছে। পরে তা বিবেচনা করা হবে। তবে দেশের বিদ্যুৎ আইন মোতাবেক জ্বালানি খরচ বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থাগুলি নিজেদের মতো মাসুল বাড়িয়ে নিতে পারে। পরে কমিশন হিসেব-নিকেশ করে তাতে সিলমোহর দেয়।
২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জানিয়েছিল, বিদ্যুতের মাসুল বাড়ানো যাবে না। সেই নির্দেশের জেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় বণ্টন সংস্থাকে। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের মাসুল বৃদ্ধির অনুমতি মেলে। ২০১৪-’১৫ এবং ২০১৫-’১৬ অর্থবর্ষে অবশ্য বণ্টন এলাকায় মাসুলের খুব বেশি হেরফের হয়নি।