—প্রতীকী ছবি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে গঠিত দুই পৃথক কমিশনের কার্যালয় কোথায় হবে, তা চূড়ান্ত করল নবান্ন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, দুই কমিশনই কাজ করবে গঙ্গাপারের এইচআরবিসি (হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্স) ভবন থেকে। কলকাতা ময়দানের অদূরে সেন্ট জর্জেস গেট রোড বা মুন্সি প্রেমচাঁদ সরণিতে অবস্থিত এই সরকারি ভবনেই অভিযোগ জমা নেওয়া এবং তদন্ত সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হবে।
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ক্ষমতায় আসার পরই পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পদক্ষেপ করে। সেই সূত্রেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ এবং নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’টি পৃথক তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। প্রশাসনের মতে, অভিযোগকারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একই ভবনে দুই কমিশনের কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ এবং নাগালের মধ্যে রাখতে শুধু সরাসরি উপস্থিত হয়েই নয়, ইমেলের মাধ্যমেও অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা কলকাতায় না এসেও নিজেদের বক্তব্য বা প্রাসঙ্গিক নথি কমিশনের কাছে পাঠাতে পারবেন। শীঘ্রই অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট ইমেল ঠিকানা এবং অন্যান্য নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ পুলিশকর্তা কে. জয়রামনকে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য গ্রহণ, নথি সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের কাজ এই কমিশনের তত্ত্বাবধানে চলবে।
নারী নির্যাতনের বিভিন্ন অভিযোগ ও ঘটনার তদন্তের জন্য গঠিত পৃথক কমিশনের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে। এই কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন। নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে এই কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, দুই কমিশনের জন্য নির্দিষ্ট কার্যালয় চূড়ান্ত হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া আরও দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা এবং ডিজিটাল মাধ্যম চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও বাড়বে। এখন নজর থাকবে, কমিশনগুলির কাছে কত সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়ে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কোন দিকে এগোয়।