শনিবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির দফতরে কোর কমিটির বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য এবং অন্য নেতারা। —নিজস্ব চিত্র।
বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্চ মাস থেকে রাজ্য জুড়ে পরিবর্তন যাত্রা শুরু করছে বিজেপি। রাজ্যের পাঁচ প্রান্ত থেকে বেরোবে পাঁচটি যাত্রা। এই পরিবর্তন যাত্রা নিয়ে শনিবার প্রাথমিক আলোচনা সেরে নিল রাজ্য বিজেপির কোর কমিটি। আলোচনা হয়েছে দলের বিভিন্ন মোর্চা এবং সেলের আসন্ন সম্মেলন নিয়েও। বিজেপির একটি সূত্রের খবর, রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে।
শনিবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির দফতরে বৈঠকে বসেছিল দলের কোর কমিটি। সূত্রের খবর, আগামী মাসে কোথা থেকে যাত্রা বেরোবে, কোথায় শেষ হবে, কবে থেকে শুরু হয়ে কবে শেষ হবে— সে সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। ওই যাত্রাগুলির রুট নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা সেরে নিয়েছেন কোর কমিটির নেতারা।
নীলবাড়ির লড়াইকে পাখির চোখ করে দলের বিভিন্ন মোর্চা এবং সেলের রাজ্য স্তরের সম্মেলন সেরে নিতে শুরু করেছে বিজেপি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সম্মেলন হয়ে গিয়েছে। বাকিগুলিও ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সেরে ফেলতে চাইছে পদ্মশিবির। চলতি মাসের শেষ দিকে একটি কর্মী সম্মেলনে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। এই সম্মেলনগুলির প্রস্তুতি নিয়ে শনিবার একপ্রস্ত বৈঠকও হয়ে গিয়েছে সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির দফতরে। রাজ্যে চিকিৎসক, আইনজীবী এবং শিক্ষক সেলের সদস্যদের নিয়ে ইতিমধ্যে সম্মেলন সেরে ফেলেছে বিজেপি।
চিকিৎসকদের সম্মেলনে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা। আইনজীবীদের সম্মেলনে এসেছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা আইনজীবী বাঁশুরি স্বরাজ। শনিবার কলকাতায় বিজেপির শিক্ষক সেলেরও রাজ্য স্তরের সম্মেলন হয়ে গিয়েছে। সেখানে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সংখ্যালঘু মোর্চার সম্মেলনও হয়ে গিয়েছে শনিবার। এই জোড়া সম্মেলনের দিনেই সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির দফতরে বৈঠকে বসে কোর কমিটি। সূত্রের খবর, যে মোর্চা এবং সেলের সম্মেলন এখনও বাকি রয়েছে, সেগুলির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে।
এখনও বেশ কিছু সম্মেলন বাকি রয়েছে। চলতি মাসেই বিজেপির বস্তি উন্নয়ন সেলের রাজ্য সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে থাকতে পারেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেতা মনোজ তিওয়ারি। মহিলা মোর্চার সম্মেলনে থাকতে পারেন দিল্লির বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। বিজেপি সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকড়িও অনুরূপ একটি কর্মসূচিতে আসতে পারেন রাজ্যে। বিভিন্ন মোর্চা এবং সেলের রাজ্য সম্মেলনগুলিতে দিল্লির ‘গুরুত্বপূর্ণ মুখ’দের নিয়ে আসছে বিজেপি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যে দিল্লির নেতৃত্ব বিশেষ নজর দিচ্ছেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ মুখ’দের এনে সেই বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে নদিয়া জেলায় একটি কর্মিসম্মেলনে আসতে পারেন শাহও।
আগামী দু’সপ্তাহে রাজ্যের একের পর এক কর্মসূচি রয়েছে বিজেপির। সূত্রের খবর, এই উপর্যুপরি কর্মসূচিগুলির দিনক্ষণ এবং রূপরেখা নির্দিষ্ট করা জরুরি ছিল। শনিবার কোর কমিটি বৈঠকে সে বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সেরে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
মাসখানেকের মধ্যেই রাজ্যসভার নির্বাচন রয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, সাকেত গোখলে ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যসভায় সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সিপিএমের আইনজীবী নেতা তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্যেরও মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই এপ্রিলে। আর মৌসম বেনজির নূর যে হেতু রাজ্যসভার সাংসদপদ ত্যাগ করে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, তাই তাঁর আসনটি এমনিতেই শূন্য অবস্থায় রয়েছে। মোট এই পাঁচটি আসনে ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, অঘটন না ঘটলে অন্তত একটি আসনে বিজেপির জয় পাকা। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় মাথায় রাখা দরকার, প্রার্থী হিসাবে কাদের নাম বিবেচনায় আসতে পারে, তা নিয়ে কোর কমিটির বৈঠকে প্রাথমিক আলোচনা সেরে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ওই সূত্রের।