রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে রাজ্যে বিধানসভা ভোট সংক্রান্ত ম্যারাথন বৈঠকের রেশ কাটতে না-কাটতেই প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করল রাজ্য সরকার। সোমবার বিকেলে নবান্নে ভার্চুয়াল মাধ্যমে জরুরি বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষ কর্তারা।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণগুলি জেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতেই এই বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বৈঠকে মুখ্যসচিব প্রতিটি জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেন। বিশেষ করে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার, নিষিদ্ধ মদের কারবার রুখে দেওয়া এবং বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের উপর নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে কমিশন যে কড়া নির্দেশ দিয়েছে, তা কঠোর ভাবে কার্যকর করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। জেলার পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হয়ে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যসচিব স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলি মেনে অতি দ্রুত প্রতিটি জেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। পাশাপাশি, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
সফরের তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার নন্দিনীর সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নিউ টাউনের একটি হোটেলে ওই বৈঠক শুরু হবে। কমিশন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার মুখ্যসচিবের পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাজ্যের ২৩ জেলার জেলাশাসক, জেলা ও পুলিশ জেলার সুপার এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের ২৪টি সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। শুধু ভোটের সময়ে নয়, ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়েও রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের ফুল বেঞ্চ মনে করছে, ক্ষেত্রবিশেষে বা কোথাও কোথাও কিছু সমস্যা আছে। তবে রাজ্যে বিধানসভা ভোট হওয়ার পরিবেশ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা খুব খারাপ রয়েছে, এমনও মনে করছে না কমিশন।