Mamata Banerjee at Park Street

বড়বাজার ঘুরে মুখ‍্যমন্ত্রী সটান ‘সারপ্রাইজ় ভিজ়িটে’ পার্ক স্ট্রিটে! সরেজমিনে রেস্তরাঁয় পরিদর্শন, কড়া নির্দেশ দিলেন প্রশাসনকে

পার্ক স্ট্রিট চত্বরে খাবারের দোকানের পরিস্থিতি দেখে দৃশ্যত বিরক্ত মুখ্যমন্ত্রী। উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী জানান, “এখানে এত গ্যাস সিলিন্ডার, যদি ফেটে যায়, তা হলে তো ৫০ হাজার লোক মরে যাবে!”

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৫ ১৫:২৯
Share:

বৃহস্পতিবার দুপুরে পার্ক স্ট্রিটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —নিজস্ব চিত্র।

বড়বাজারের অগ্নিকাণ্ডের স্থল পরিদর্শনের পর সেখান থেকে সোজা পার্ক স্ট্রিট চত্বরে ‘সারপ্রাইজ় ভিজ়িটে’ যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে কিছু খাবারের দোকানের পরিস্থিতি দেখে দৃশ্যত বিরক্ত মুখ্যমন্ত্রী। উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী জানান, “এখানে এত গ্যাস সিলিন্ডার, যদি ফেটে যায়, তা হলে তো ৫০ হাজার লোক মরে যাবে!” কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এবং দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে রেস্তরাঁর প্রতিনিধিদের ডেকে দ্রুত আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি। জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করে এই সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রেস্তরাঁর ছাদ বন্ধ করা যাবে না।

Advertisement

বড়বাজারের একটি হোটেলে গত মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই প্রাণ হারিয়েছেন দম বন্ধ হয়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বড়বাজারের ওই হোটেল সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনে গিয়েই পুরসভা, পুলিশ এবং দমকলকে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে ‘সারপ্রাইজ় ভিজ়িট’-এর নির্দেশ দেন তিনি। পার্ক স্ট্রিটের রেস্তরাঁগুলি পরিদর্শনের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি এক ব্যক্তির থেকে তিনি পার্ক স্ট্রিটের রেস্তরাঁগুলির পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, যাতে দ্রুত বিষয়টিতে নজর দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট একটি রেস্তরাঁর বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন তিনি। মমতাকে তিনি বলেছিলেন, ওই রেস্তরাঁয় একটিই মাত্র ছোট সিঁড়ি রয়েছে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে কেউ নীচে নামতে পারবেন না বলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ওই তথ্য পাওয়ার পরে বৃহস্পতিবার বড়বাজার থেকে সটান পার্ক স্ট্রিট চত্বরে রেস্তরাঁগুলির পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন মমতা।

বড়বাজারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন অগ্নিকাণ্ড ঘটা ওই হোটেলটি ‘সিল’ করে দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পার্ক স্ট্রিটের রেস্তরাঁগুলির ক্ষেত্রেও কি তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হবে? প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরসভা, পুলিশ এবং দমকল একসঙ্গে আলোচনায় বসবে রেস্তরাঁগুলির সঙ্গে। ওই বৈঠকেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মমতা।

Advertisement

পরে মেয়র ফিরহাদ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বেশ কিছু নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। সেইমতো আমি এবং দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বৈঠক করেছি। বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেইমতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিস পাঠানো হবে বিভিন্ন জায়গায়।” স্থানীয় সূত্রের খবর, আপাতত ওই এলাকায় ৬টি রেস্তরাঁ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বস্তুত, বড়বাজার পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, অনেক জায়গাতেই দোকানের মধ্যে প্লাস্টিক এবং রাসায়নিক মজুত করে রাখা হয়। প্রশাসনের তরফে নিষেধ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে কথা শোনা হয় না বলে জানিয়েছিলেন মমতা। বড়বাজারের ওই হোটেলের আপৎকালীন ব্যবস্থার অভাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ইমার্জেন্সির জন্য সব সময় বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত। ইমার্জেন্সিতে যারা বিকল্প রাখে না, তাদের কি ক্ষমা করা উচিত? কোথাও কোথাও আমি ভীষণ টাফ। এ ব্যাপারে আমি কিন্তু রাফ অ্যান্ড টাফ!”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement