সাকুল্যে চারটি স্মার্ট সিটি রাজ্যের বরাতে

পশ্চিমবঙ্গের চেহারায় কি যথেষ্ট ‘স্মার্টনেস’ নেই! প্রশ্নটা আজ তুলছিলেন অনেকে। এ সপ্রতিভতার মাপকাঠি অবশ্য শহর— ‘স্মার্ট সিটি’। আর গোলযোগটা সেখানেই। উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু বা মহারাষ্ট্রকে যখন যথাক্রমে ১৩টি, ১২টি ও ১০টি করে স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার সুযোগ দিল নরেন্দ্র মোদী সরকার, তখন বাংলার ঘরে আসছে মাত্র ৪টি!

Advertisement

শঙ্খদীপ দাস

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০১৫ ০৩:৩৯
Share:

পশ্চিমবঙ্গের চেহারায় কি যথেষ্ট ‘স্মার্টনেস’ নেই!

Advertisement

প্রশ্নটা আজ তুলছিলেন অনেকে। এ সপ্রতিভতার মাপকাঠি অবশ্য শহর— ‘স্মার্ট সিটি’। আর গোলযোগটা সেখানেই। উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু বা মহারাষ্ট্রকে যখন যথাক্রমে ১৩টি, ১২টি ও ১০টি করে স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার সুযোগ দিল নরেন্দ্র মোদী সরকার, তখন বাংলার ঘরে আসছে মাত্র ৪টি! অর্থাৎ সাকুল্যে ওই চারটি স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার জন্যই কেন্দ্রের সাহায্য পাবে পশ্চিমবঙ্গ। তবে ‘অটল মিশনের’ আওতায় রাজ্যের অন্য ২৯টি ছোট শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নে নরেন্দ্র মোদী সরকারের আর্থিক সাহায্য পাবে রাজ্য।

ভোটের ইস্তাহারেই বিজেপি ঘোষণা করেছিল, কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে দেশ জুড়ে একশোটি স্মার্ট সিটি গড়বে তারা। আবাসন ও পরিবহণ ক্ষেত্রে উন্নত পরিকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক ইত্যাদি থাকবে এই শহরগুলিতে। এর ফলে এক দিকে মহানগরগুলির উপর চাপ কমবে, অন্য দিকে প্রশস্ত হবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পথ। স্মার্ট সিটি প্রকল্পের পাশাপাশি নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে মোদী সরকার। ইউপিএ জমানার জওহরলাল নেহরু নগর পুনর্নবীকরণ প্রকল্প (জেএনএনইউআরএম)-কে বাতিল করে নতুন ওই প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে ‘অম্রুত’ (অটল মিশন ফর রিজুভিনেশন অ্যান্ড আর্বান ট্রান্সফরমেশন)। এ ক্ষেত্রে ছোট শহরগুলি কেন্দ্রের অনুদান পাবে প্রকল্প-ভিত্তিক। যেমন, জল সরবরাহ, নিকাশি, পার্ক, পরিবেশ রক্ষা ইত্যাদি। এই দুই প্রকল্প খাতে চলতি অর্থবর্ষে ৯৮ হাজার কোটি বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। পরশু নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে এই দুই প্রকল্পের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement

কোন রাজ্যকে কতগুলি স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার সাহায্য দেওয়া হবে, নগরোন্নয়ন মন্ত্রক থেকে তার হদিস পাওয়া গিয়েছে আজই। সেই হিসেব মতো, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, পঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, তেলঙ্গনা, ছত্তীসগড়, গুজরাত, কর্নাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশ— এই বারোটি রাজ্যেই ৭০ শতাংশ স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা হবে। ‘অম্রুত’ প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা মোট ৪৭৬টি ছোট শহরের ২২৫টি রয়েছে এই ১২ রাজ্যে। আবার এই ১২টির মধ্যে আটটি রাজ্যের বর্তমান শাসক বিজেপি বা তাদের শরিক দল।

রাজ্যে অন্তত ১০টি স্মার্ট সিটি হচ্ছে ধরে নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরেই সমীক্ষা শুরু করেছিল নগরোন্নয়ন দফতর। কিন্তু আজকের পর কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ কি রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হল? নাকি রাজ্যের বিনিয়োগ-চিত্র বেহাল হওয়াটাই এর কারণ? বৈষম্যের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের এক আমলা আজ বলেন, ‘‘দেশে বিধিবদ্ধ শহরের সংখ্যা ৪০৪১টি। অর্থাৎ যে শহরগুলি কোনও না কোনও পুরসভা পরিচালিত। রাজ্যওয়াড়ি এই শহরগুলিকে একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠিতে ফেলে নিরপেক্ষ ভাবে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।’’ তাঁর কথায়, মহারাষ্ট্র বা তামিলনাড়ুর তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা শহর যে পরিকাঠামোগত দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে, সন্দেহ নেই। বিশেষ করে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি লগ্নির কথা ভেবে পুরসভাগুলিতে যে ধরনের সংস্কার হওয়া উচিত, সেখানেও পিছিয়ে রয়েছে এই শহরগুলি। তবে সেটাই শুধু বিবেচ্য ছিল না। এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, শহরের আয়তন সবই বিচার করা হয়েছে। সেই কারণে বিজেপি-শাসিত রাজ্য না হলেও উত্তরপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু বেশি সংখ্যায় স্মার্ট সিটি গড়ার সুযোগ পাবে। আবার মোদীর রাজ্য হয়েও গুজরাত পাচ্ছে ৬টি। ওড়িশা ও বিহার পাচ্ছে তিনটি করে।

পশ্চিমবঙ্গের কোন চারটি শহরকে ‘স্মার্ট’ করে তোলা হবে? নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের ওই আমলা বলেন, সেখানেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পথ বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। ওই চারটি শহর বেছে নিতে রাজ্যের বিভিন্ন শহরের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে। নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের তৈরি করা সুনির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে (ধরা যাক, পরিকাঠামো কিংবা নাগরিক পরিষেবার মানের বিচারে) পশ্চিমবঙ্গের পুরসভা-চালিত বিভিন্ন শহরের মধ্যে তুল্যমূল্য বিচারে উঠে আসবে সেরা ৪টি শহর। একে বলা হবে,‘সিটি চ্যালেঞ্জ কম্পিটিশন’। এটি প্রথম পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় স্তরে প্রতিযোগিতা হবে বিভিন্ন রাজ্যের বাছাই শহরগুলির মধ্যে। চূড়ান্ত র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম যে কুড়িটি শহর থাকবে, তারা চলতি আর্থিক বছরেই কেন্দ্রের অনুদান পাবে। একই ভাবে পরের বছর চল্লিশটি ও তার পরের বছর বাকি চল্লিশটি শহর অনুদান পাবে।

তবে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অজয় মাকেন আজ বলেন, ‘‘স্মার্ট সিটি প্রকল্পটিতে আদতে কেন্দ্র বিশেষ বরাদ্দই করবে না। তা নির্ভর করছে বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর। আর দ্বিতীয় প্রকল্পটিতে জেএনইউআরএম-কেই আরও লঘু করা হয়েছে।’’ যার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘‘এই অভিযোগ ভ্রান্ত। ইউপিএ জমানায় মাত্র ৬৭টি শহর জেএনইউআরএম-এর সত্তর শতাংশ টাকা পেত। অথচ ছোট শহরের সংখ্যা সেখানে চার হাজারের ওপর। এ বার প্রায় পাঁচশোটি ছোট শহর অটল মিশনের সাহায্য পাবে।’’ স্মার্ট সিটি হয়ে ওঠার দৌড়ে কি নামবে বাবুলের নির্বাচনী কেন্দ্র আসানসোল? জবাবে বাবুল বলেন, ‘‘সে পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারই তো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছে। পুরভোট নিয়ে জটিলতা থেকে গেলে আসানসোল তো সমস্যায় পড়বেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement