কৃষক-মৃত্যু এবং চোলাই খেয়ে মৃত্যুকে কার্যত একাসনে বসালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ!
জামালপুরের জৌগ্রামে বুধবার দলীয় সভায় দিলীপবাবু বলেন, “কেউ মদ খেয়ে মারা গেলেও ২ লক্ষ টাকা! আবার কৃষকের মৃত্যু হলেও ২ লক্ষ টাকা! দিদিমণি মানুষের মৃত্যুর দাম ২ লক্ষ টাকা বেঁধে দিয়েছেন।’’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত সোমবার ২০১৮ সালের শেষ দিন নবান্নে ঘোষণা করেন, পশ্চিমবঙ্গে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কৃষকের মৃত্যু হলে রাজ্য সরকার তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দেবে। সেই প্রসঙ্গে দিলীপবাবুর এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, চোলাইয়ে মৃত্যুর সঙ্গে কৃষক-মৃত্যুর তুলনা কি রুচি ও শালীনতাসম্মত? প্রত্যেক কৃষককে ১ একর জমি পিছু ৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন। তাকেও এ দিন ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ বলে কটাক্ষ করেছেন দিলীপবাবু। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে কৃষকের মৃত্যুতে আঙুল উঠেছে ওই দলের দিকেই। কৃষক বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এ বার দিলীপবাবুর মন্তব্য থেকেও বোঝা গেল, কৃষকদের সম্পর্কে বিজেপি কতটা অসংবেদনশীল!
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু অবশ্য বলেন, “কে কী বলল, তাতে আমরা গুরুত্ব দিতে নারাজ। সাধারণ মানুষ ও চাষিভাইরা জানেন, তাঁদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী আছেন।’’
দিলীপবাবু এ দিন আরও অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত ভোটে ১৫০০ বিজেপি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১৫০০ দলীয় কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর হয়েছিল। ৩৫০০ কর্মী ঘরছাড়া হয়েছিলেন। এ ছাড়াও গত সাত মাসে ৩৯ জন কর্মী খুন হয়েছেন। এর পরই তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘এ সব সহ্য করে এ রাজ্যে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব। গণতন্ত্রের অধিকারের জন্যই লড়ছি। ঠিক যে ভাবে ত্রিপুরায় লড়েছিলাম। ত্রিপুরায় যে ভাবে ভোট করেছি, এখানেও সে ভাবে করব। ত্রিপুরায় আমরা পেরেছি।’’ যা জেনে বামফ্রন্ট অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে, ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজরোষে সিপিএমের দলীয় মুখপত্রের প্রকাশ বন্ধ হয়ে যাওয়া, দলের রাজ্য সম্পাদক, বিধায়কের উপর হামলা, ভোট লুঠ— কিছুই বাকি থাকেনি!