—প্রতীকী চিত্র।
ওটিটি-তে ‘পঞ্চায়েত’ সিরিজ যতই সাফল্য পাক না কেন, দেশের পঞ্চায়েতি ব্যবস্থায় গ্রামসভায় যোগ দিতে মানুষের উৎসাহ কমছে। বিশেষ করে কমছে গ্রামসভার বৈঠকে মহিলাদের উপস্থিতি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে উল্টো চিত্র। গ্রামসভার বৈঠকে সক্রিয় যোগদানে রাজ্যের মহিলারা সবচেয়ে এগিয়ে। পুরুষ বা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর থেকেও বেশি হারে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামের মহিলারা গ্রামসভার বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। সার্বিক ভাবেও গ্রামসভা নিয়ে রাজ্যের মানুষ অনেক বেশি ওয়াকিবহাল।
কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক আজ গোটা দেশে ‘গ্রামসভায় কম অংশগ্রহণ’ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। গ্রামসভাতেই ঠিক হয় রাজ্যে কোথায় কোন উন্নয়নের কাজ হবে। গ্রামের সমস্যা নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়। অথচ গোটা দেশে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে সমীক্ষা চালিয়ে হায়দরাবাদের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পঞ্চায়েতি রাজ’-এর তৈরি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গ্রামসভায় পরিযায়ী শ্রমিক, তরুণ, বৃদ্ধ ও মহিলাদের উপস্থিতি সবথেকে কম। গ্রামসভায় না যাওয়ার পিছনে কাজের চাপ, চাষের জমিতে ব্যস্ততা প্রধান কারণ। তা ছাড়াও গ্রামসভায় বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্লান্তি এসেছে। কারণ বৈঠক থেকে নজরে পড়ার মতো কোনও ফল মিলছে না। অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা, একই বিষয়ে বারবার কথা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, নালিশের সমাধান না-হওয়ার ফলে উৎসাহ কমেছে।
পশ্চিমবঙ্গে ছবিটা বিপরীত। পশ্চিমবঙ্গে গ্রামসভায় মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের হার ৯৬ শতাংশের বেশি। তফসিলি জাতি, জনজাতির মানুষের অংশগ্রহণও প্রায় ৭৪ শতাংশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, সামগ্রিক ভাবে রাজ্যে গ্রামসভায় সক্রিয় অংশগ্রহণের হার ৯১ শতাংশের বেশি।
সমীক্ষায় ৯৭ শতাংশের বেশি মানুষ জানিয়েছেন, গ্রামসভার বৈঠক সম্পর্কে তাঁরা অবহিত। গ্রামসভার অধিকার নিয়েও ৯২ শতাংশের বেশি মানুষের সম্যক ধারণা রয়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গে বহু ক্ষেত্রে গ্রামসভার বৈঠকের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনও সভাঘর নেই। তবে পানীয় জল থেকে শৌচাগারের সুবিধা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ছবি উৎসাহব্যাঞ্জক হলেও গোটা দেশে গ্রামসভায় অংশগ্রহণে উৎসাহ কম দেখে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক গ্রামসভার গুরুত্ব নিয়ে দেশ জুড়ে প্রচারে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের সচিব বিবেক ভরদ্বাজ বলেন, ‘‘গ্রামসভায় বিশেষ ভাবে মহিলাদের অংশগ্রহণ এবং তরুণ ও প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ কী ভাবে বাড়ানো যায়, তার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ কী হবে, তা ঠিক করতে এই রিপোর্ট খুবই জরুরি। গত এক দশকে গ্রামীণ ভারতে প্রায় সকলের কাছে মূল সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে গিয়েছে। তৃণমূলস্তরের গণতন্ত্র আরও গভীরে নিয়ে যেতে আমরা দায়বদ্ধ। গ্রামসভায় সমাজের সকলের উপস্থিতি, সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়িয়ে, তাকে আরও ফলাফল-কেন্দ্রিক করে তুলে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে