এলাকায় বিজেপির পতাকা দেখা যাচ্ছে। অথচ শাসকদলের পতাকা তেমন নেই! তৃণমূলের অন্দরের খবর, জঙ্গলমহলে পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করতে এসে বুধবার এ নিয়েই প্রশ্নই
তুলেছেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের সভাঘরে জেলায় তৃণমূলের আটটি ব্লকের সভাপতি, ৭৯টি অঞ্চলের সভাপতি, সব স্তরের জনপ্রতিনিধি ও শাখা সংগঠনের নেতাদের নিয়ে এ দিন ‘রুদ্ধদ্বার’ পর্যালোচনাসভা করেন পার্থবাবু। সূত্রের খবর, জঙ্গলমহলে তুলনায় খারাপ ফলের জন্য, দলের বিধায়ক, সাংসদ থেকে সব স্তরের নেতা-নেত্রীদের জনসংযোগহীনতাকেই দায়ী করেছেন তিনি। কেন এই খারাপ ফল? নেতা, কর্মীদের প্রতি তৃণমূল মহাসচিবের পরামর্শ— যে সব এলাকায় বিজেপি ভাল ফল করেছে সেখানে যেতে হবে। মানুষের কী কী ঘাটতি রয়েছে তা লিখে নিতে হবে ডায়েরিতে।
দুপুর দেড়টা থেকে শুরু হয় বৈঠক। শেষ হয় বিকেল ৪টে নাগাদ। বৈঠক প্রসঙ্গে বাইরে বিশেষ কিছু বলতে চাননি পার্থবাবু। তিনি শুধু বলেন, ‘‘এটা আমাদের দলীয় সাংগঠনিক বৈঠক। দলের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের সর্বস্তরে জনসংযোগ আরও বাড়ানোর
কথা বলেছি।”
তৃণমূল সূত্রের খবর, মূলত জনসংযোগের প্রশ্নেই এ দিন বারবার সরব হয়েছেন দলের মহাসচিব। পার্থবাবু প্রশ্ন করেছেন, আদিবাসী এলাকার সঙ্গে কি যোগাযোগ রাখা হয়েছিল? আদিবাসী গ্রামে এক জন সমাজের মাথা থাকেন। তাঁর কথাতেই সমাজের মানুষ ভোট দেন। সমাজের সেই মাথার কাছে গেলে যে এই ফল হতো না তা-ও জানিয়ে দিয়েছেন পার্থবাবু।
এ দিনের সভায় নেতা-কর্মীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ করতে থাকেন। সূত্রের খবর, ধমক দিয়ে পার্থবাবু জানিয়ে দেন, ভোটের সময় দলের প্রতীক নিয়ে বাকি পাঁচ বছর কাজ না করলে বিপদ হবে। ঘন ঘন কলকাতায় না গিয়ে বিধায়কদের নিজেদের এলাকা সামলানোর পরামর্শ দিয়েছেন পার্থবাবু। ঝাড়গ্রাম জেলার এক বিধায়ক ও মন্ত্রীর নাম করে পার্থবাবু সতর্ক করে দেন, স্কুলে ভর্তির জন্য সুপারিশ করা চলবে না। মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হবে। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সুপারিশপত্র পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ ওঠে। পার্থবাবু জানিয়ে দেন, আদিবাসীদের জন্য যা কাজ হয়েছে সেগুলি তাদের কাছে পৌঁছচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
পার্থবাবু ঠিক কী বার্তা দিতে চাইলেন? বৈঠকে উপস্থিত এক তৃণমূল নেতার জবাব, ‘‘পার্থবাবু বলেছেন, মানুষের সঙ্গে মিশুন। চোখ রাঙিয়ে কথা বলবেন না।”