এভারেস্ট শীর্ষে শুভম চট্টোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
এক জন পর পর দু’মরসুমে এভারেস্ট শীর্ষে। অন্য জন এভারেস্ট ছুঁয়ে উঠলেন লোৎসে-তেও। পাহাড় চুড়োয় বাঙালির জয়জয়কার একই দিনে।
এভারেস্টের প্রতি তাঁর আকর্ষণ এতটাই যে, বার বার সেখানে যেতে চান। তাই গত বছরের সফল আরোহণের পরে এ বছরও এভারেস্টে ফিরেছেন রাজ্য পুলিশের লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল। গত বৃহস্পতিবার সকালে ফের এভারেস্টের শীর্ষ ছুঁয়েছেন তিনি। অন্য জন সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে সপ্তশৃঙ্গ ও সপ্ত আগ্নেয়গিরি জয়ের রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে বুধবার দুপুরে পৌঁছেছিলেন এভারেস্টের চুড়োয়। তার মাত্র সাড়ে ২৭ ঘণ্টার মধ্যেই পড়শি লোৎসের শীর্ষেও (৮৫১৬ মিটার, চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ) পৌঁছে গিয়েছেন হিন্দমোটরের বছর তিরিশের শুভম চট্টোপাধ্যায় ওরফে রনি।
গত রবিবার বেসক্যাম্প থেকে উপরের ক্যাম্পে ওঠা শুরু করেছিলেন লক্ষ্মী। তাঁর অভিযানের আয়োজক সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ক্যাম্প-৪ থেকে ‘সামিট পুশ’ শুরু হয় লক্ষ্মীর। এ দিন এভারেস্ট শীর্ষের পথে গিয়েছিলেন প্রায় ২০০ জন। ফলে ভিড় ঠেলে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা নাগাদ শীর্ষে পৌঁছন লক্ষ্মী। এ নিয়ে পর পর ২ বছর এভারেস্টে সাফল্য পেলেন পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের বাসিন্দা, পশ্চিমবঙ্গ সশস্ত্রপুলিশের তৃতীয় ব্যাটেলিয়নের ওই কনস্টেবল। শনিবার তাঁর বেসক্যাম্পে ফেরার কথা।
২০২৪ সালে ছ’হাজারি পিনাক্ল শৃঙ্গাভিযান দিয়ে পর্বতারোহণ শুরু লক্ষ্মীকান্তের। সেই অভিযানের সহযাত্রী, পর্বতারোহী রমেশ রায় বলছেন, ‘‘লক্ষ্মী ঠান্ডা মাথার ছেলে। পর পর দু’বছর এভারেস্টের শীর্ষ ছোঁয়ার কৃতিত্ব আজ পর্যন্ত কোনও বাঙালির নেই।’’ যদিও প্রথমে পড়শি লোৎসেকে ছোঁয়ার পরিকল্পনা থাকলেও খুম্বু হিমবাহে বিশালাকৃতি বরফখণ্ডের (সেরাক) কারণে অভিযানের শুরুতেই হোঁচট খেতে হয় লক্ষ্মীকে। ফলে এ বারে বাতিল লোৎসের পরিকল্পনা।
তবে কোনও বাধাই শুভমের জোড়া অভিযানের পথে অন্তরায় হয়নি। বুধবার দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছেছিলেন। পরিসংখ্যান বলছে, সে দিন মোট ২৭৪ জন আরোহী ও শেরপা এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছন, যা এক দিনে ভিড়ের নিরিখে রেকর্ড। সেই তীব্র জন-জট ঠেলে দেরিতে সামিট করে, রাত ৮টা নাগাদ ক্যাম্প ৪-এ পৌঁছন শুভম। ঘণ্টাচারেক বিশ্রাম নিয়ে ফের বেরোন লোৎসের উদ্দেশে। তাঁর অভিযানের আয়োজক সংস্থার অপারেশনাল ম্যানেজার বিকাশ বাটালা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে ১৫ মিনিট নাগাদ লোৎসের শিখরে পৌঁছন শুভম। শুক্রবার বেসক্যাম্পে ফিরে তিনি ফোনে বলেন, ‘‘ভিড়ের কারণে হিলারি স্টেপে আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে এক সময়ে হাল ছেড়ে দিতে মন চাইছিল। জন-জটের কারণে শীর্ষ থেকে ক্যাম্প-৪-এ নামতে ২ ঘণ্টার জায়গায় ৯ ঘণ্টা লেগেছে। না-হলে আরও অনেক কম সময়ের মধ্যে দুই শৃঙ্গ ছুঁতে পারতাম।’’ এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী দেবাশিস বিশ্বাস বলছেন, ‘‘এভারেস্ট-লোৎসে একই মরসুমে করে দেখিয়েছিলেন ছন্দা গায়েন, ২০১৩ সালে। ২০২২ সালে পিয়ালি বসাকও করেছেন। জোড়া-শৃঙ্গ ছোঁয়ার প্রবণতা ক্রমশ যে জনপ্রিয় হচ্ছে, শুভমের সাফল্যইতার প্রমাণ।’’
এ দিনই জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার এভারেস্টের শীর্ষ ছুঁয়ে নেমে আসার সময়ে মৃত্যু হয়েছে অরুণ তিওয়ারি এবং সন্দীপ আরে নামে দুই ভারতীয় আরোহীর। সূত্রের খবর, নামার সময়ে হিলারি স্টেপের কাছেই অসুস্থ ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় অরুণের। সন্দীপকে উদ্ধার করে ক্যাম্প-২-এ নামিয়ে আনা হলেও সেখানে তিনি মারা যান। এই নিয়ে এ বছর এভারেস্টে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে