Infrastructure development

পরিকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত জমি-জট কাটানোর সিদ্ধান্ত

কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে প্রতি বার জোর থাকে পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উপরে। পরিকাঠামো খাতে দেশের বিভিন্ন রাজ্য কেন্দ্রের থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বরাদ্দ পেয়ে থাকে। এ রাজ্যের পূর্ত দফতরের কর্তারা এই উদাহরণ হিসেবে এগিয়ে রাখেন প্রতিবেশী বিহারকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ০৭:০৫
Share:

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

পরিকাঠামো এবং আর্থিক স্বাস্থ্য ফেরানোই যে নতুন বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকার, তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সরকারের ৪১টি দফতরকে নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই তাঁর বার্তা— কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শুরু করার পাশাপাশি, রেল-বিমানবন্দরের মতো পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সামনে থাকা জমি-জটের সব সমস্যা দূর করতে হবে। সমান্তরালে কার্যকর করতে হবে রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানোর যাবতীয় উপায়।

কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে প্রতি বার জোর থাকে পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উপরে। পরিকাঠামো খাতে দেশের বিভিন্ন রাজ্য কেন্দ্রের থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বরাদ্দ পেয়ে থাকে। এ রাজ্যের পূর্ত দফতরের কর্তারা এই উদাহরণ হিসেবে এগিয়ে রাখেন প্রতিবেশী বিহারকে। সূত্রের দাবি, এ দিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রেল প্রকল্পের সামনে যত জমি-বাধা রয়েছে, তা দূর করতে হবে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ৬১টি রেল প্রকল্প জমি-জটে আটকে রয়েছে। তার মধ্যে জমির সমস্যার কারণে ৪১টি প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। ২০টি প্রকল্পের কাজ শুরুই করা যায়নি ওই একই কারণে। সব মিলিয়ে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমি এই প্রশাসনিক জটে রয়েছে। এ নিয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব একাধিক বার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে তাঁর হস্তক্ষেপ দাবি করলেও, পরিস্থিতির বদল ঘটেনি বলেই অভিযোগ। পাশাপাশি, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, অমৃতসর-ডানকুনি রেল পণ্য করিডরের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি এখনও। পাশাপাশি, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজও বাধাপ্রাপ্ত হয়ে রয়েছে জমি জটের কারণেই। কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও, তার জমি খোঁজার কাজ বিশ বাঁও জলে। আধিকারিকদের মতে, সব মিলিয়ে পরিকাঠামোর বিপুল কাজ আটকে রয়েছে বিগত সরকারের জমি-নীতির কারণে।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানোর উপরেও জোর দিয়েছেন। সূত্রের দাবি, এ ব্যাপারে ভূমি রাজস্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কাজের সব টেন্ডার কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের বিধি মেনে করতে হবে আধিকারিকদের। বলা হয়েছে খনি ও খনিজের থেকেওআয় বাড়াতে।

প্রশাসনিক সূত্রের মতে, বালি-পাথরের মতো এমন খনিজেরও বেআইনি উত্তোলন এবং পাচার ঠেকাতে পারলে রাজ্যের অন্তত ১০-২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় হতে পারে। এই বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের বিষয়টিও তাঁকে দেখতে বলা হয়েছে বলে খবর। প্রসঙ্গত, রাজ্যের এখন আর্থিক হাল যথেষ্ট নড়বড়ে। নতুন সরকারের কাছে সেই ক্ষত মেরামত করাই চ্যালেঞ্জ।

সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এ দিনও জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও অনুদান সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছাড়া দেওয়া যাবে না। পোর্টাল সক্রিয় করে মোয়াজ্জেন ভাতাও সে ভাবেই দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে যুক্ত বিধায়কদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিবকে। একই ভাবে স্বাস্থ্য-শিক্ষাতেও সেই জগৎ থেকে আসা প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট সচিবদের আগামী সোমবারের মধ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা জমা দিতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন