BJP Ministers’ Portfolios

টাটাকে ফেরানো, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি থেকে শিক্ষার অধঃপতন! হাজারো চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন মন্ত্রীদের কার কী বার্তা?

বুধবার মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার ফাঁকফোকর মেরামত করে প্রশাসনকে নতুন করে সাজানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ নতুন মন্ত্রীদের সামনে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ২১:৩১
Share:

(বাঁ দিক থেকে) শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

টাটাকে পশ্চিমবঙ্গে ফেরাতে চান রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। দায়িত্ব নিয়ে শিল্পক্ষেত্রে এমনই কিছু লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়ে দিলেন তিনি। পাশাপাশি, দুর্নীতিতে জর্জরিত শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। জানিয়েছেন, দুর্নীতি দূর করে শিক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করবেন। অর্থ দফতর নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

Advertisement

বুধবার মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বণ্টন করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার ফাঁকফোকর মেরামত করে প্রশাসনকে নতুন করে সাজানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ নতুন মন্ত্রীদের সামনে। দায়িত্ব নিয়ে তাঁরা সেই চ্যালেঞ্জের কথাই জানিয়েছেন। তাপসের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানো, বাইরে থেকে লগ্নিকারীদের এ রাজ্যে নিয়ে আসা তাঁর অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ যে শিল্পবান্ধব রাজ্য, সেই বার্তা তিনি পৌঁছে দিতে চান শিল্পপতিদের কাছে। আগের সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, ‘‘গত ১৫ বছরে রাজ্যে শিল্পও হয়নি, কৃষিও হয়নি। সিঙ্গুর আন্দোলন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেছিলেন। সেটা নিয়েই বা কী করেছেন? একের পর এক বিজিবিএস, স্পেনে গিয়ে হারমোনিয়াম বাজানো, পিছন দিকে হাঁটা, এগুলো আমাদের সরকার করবে না। শিল্প নিয়ে আমরা সবরকম চিন্তাভাবনা করব। কোনও দিক বাদ দেব না। কারণ, শিল্পই রাজ্যের ভবিষ্যৎ।’’

বাজেটে শিল্প নিয়ে নতুন ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তাপস। তাঁর কথায়, ‘‘শিল্পে গরিমা ফেরাতে আমাদের সকলকে পরিশ্রম করতে হবে। এখানে লগ্নি বাড়াতে হবে। এত বার যে বিজিবিএস হয়েছে, তার ফল কোথায়? এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভাবনাচিন্তা করছেন। তাতে রাজ্যের লাভ হবে।’’ টাটাকে ফেরানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘টাটা চলে যাওয়ার পরে গত ১৫ বছরের রাজত্বে ৬৬৮৮ জন লগ্নিকারী পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করেছেন। নানা কারণে সেটা হয়েছে। কারণগুলি নিশ্চয়ই ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারীদের কাছে সুখকর ছিল না। এই রাজ্যকে শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।’’ টাটা ফিরলে অন্য বিনিয়োগকারীরাও পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন তাপস।

Advertisement

বুধবার দায়িত্ব পাওয়ার পর বিজেপি সরকারের মন্ত্রীরা নিজ নিজ দফতরে গিয়েছিলেন। সেখানে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার পর অনেকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। স্কুলশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী দীপক বর্মণ বলেন, ‘‘আমি নিজে শিক্ষক এবং বিধায়ক। এখন মন্ত্রী হয়েছি। দফতরে সকলের সঙ্গে কথা বলে আগে বিষয়গুলি বোঝার চেষ্টা করব। আমার এত দিনের বোঝাপড়ার সঙ্গে কোথায় মিল এবং কোথায় অমিল রয়েছে, সেটা জানতে হবে। তার পরেই কোনও পদক্ষেপ করতে পারব।’’

বিকাশ ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ। তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন দফতরের আধিকারিকেরা দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে ছিলেন। সেই পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত বদল আসবে। জগন্নাথের কথায়, ‘‘বাম জমানার মধ্যমেধার চাষ থেকে তৃণমূল জমানায় যে মেধাহীনতার দিকে শিক্ষা এগিয়েছে, তার উদাহরণ কলেজে লাইব্রেরি এবং ল্যাবের পরিবর্তে বেডরুম খুঁজে পাওয়া। এই পরিস্থিতি পাল্টাতেই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে মানুষ।’’ এসএসসি, পিএসসি, সিএসসি, পুলিশে নিয়োগ থেকে শুরু করে পুরসভা এবং পঞ্চায়েতে নিয়োগ— সর্বত্র স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছেন জগন্নাথ। তাঁর কথায়, ‘‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং ঘুষমুক্ত চাকরি আমরা নিশ্চিত করব। উচ্চশিক্ষা কিংবা কারগরি শিক্ষা— সর্বত্র নিয়োগ হবে স্বচ্ছ ভাবে।’’

পশ্চিমবঙ্গের অর্থ দফতরে নতুন পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জার্মানির সঙ্গে এ ক্ষেত্রে তিনি পশ্চিমবঙ্গের তুলনা করেছেন। বলেছেন, ‘‘জার্মানি যখন একেবারে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, নতুন ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের আবার তুলতে হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গতেও তেমন কোনও মার্শাল প্ল্যান করতে হতে পারে।’’ বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি যাবেন স্বপন। চা বাগানের মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে সেখানকার সমস্যাগুলি বোঝার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, রাজ্যের অর্থ দফতরের হাল ধরতে হলে রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কিন্তু তার জন্য কর বাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি। স্বপন জানিয়েছেন, করের পরিমাণ না বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় করাই তাঁর চ্যালেঞ্জ। তাঁর কথায়, ‘‘আগে সব কিছুতেই কর বসিয়ে দেওয়া হত। এখানকার প্রচলিত ব্যবস্থায় কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে। সেটা সকলেই জানেন। ফাঁক কেন থাকছে, সেটা সিস্টেমের সমস্যা কি না দেখতে হবে। কী করে সর্বোচ্চ রাজস্ব উৎপাদন করা যায় দেখতে হবে। যাতে মানুষের উপর করের বোঝা না চাপে। কর বাড়লেই যে রাজস্ব বাড়বে, তা সবসময় হয় না। অনেক সময় কর কমালেই রাজস্ব বাড়তে পারে। সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা দরকার।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement