মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ফলতা বিধানসভা এলাকায় এক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, “গত ৩ জুন ২৮ লক্ষ মা-বোনের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত আরও ১ লক্ষ ৫ হাজার মা-বোন অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করে তথ্য পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। তাঁরা আগামী ১ জুলাই জুন মাসের ৩ হাজার টাকা পেয়ে যাবেন।”
প্রকল্পে এখনও নাম নথিভুক্ত না হওয়া মহিলাদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও চিন্তা করবেন না। এখনও যাঁরা বাকি রয়েছেন, তাঁরা জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে ফর্ম পূরণ করুন। সরকারি আধিকারিকেরা আপনাদের সাহায্য করবেন। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়েও সহযোগিতা করা হবে।” অন্নপূর্ণা প্রকল্পের পাশাপাশি আসন্ন রাজ্য বাজেট নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগামী ২২ জুন রাজ্য বাজেট পেশ করা হবে। যুবক-যুবতী, সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরও একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। যেহেতু বাজেট এখনও পেশ হয়নি, তাই এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। কৃষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষ যে আশা-ভরসা নিয়ে আমাদের ক্ষমতায় এনেছেন, সেই ভরসার মর্যাদা আমরা রাখব।”
উল্লেখ্য, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল তাদের অন্যতম প্রধান প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডারকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল। ওই প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের মাসিক ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলাদের ১,৭০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হত। বিজেপি নির্বাচনী প্রচারে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রকল্প চালু হয়েছে।
তবে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রকাশিত ১২ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সমালোচনা করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। যদিও সেই বিতর্কে না গিয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও যোগ্য মহিলাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য সরকার।