ইয়াসির হায়দার। ছবি: সংগৃহীত।
ফের রাজনৈতিক দলবদল করলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই ইয়াসির হায়দার। শনিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার মরাদিঘিতে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি কংগ্রেস ছেড়ে হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বাধীন জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি)-তে যোগ দেন। সভামঞ্চে জনতা উন্নয়ন পার্টির পতাকা হাতে তুলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন দলে তাঁর যোগদান সম্পন্ন হয়।
এর আগে ২০২৩ সালের ২০ অগস্ট ইয়াসির তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময় বিধান ভবনে তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর হাত থেকে কংগ্রেসের পতাকা গ্রহণ করেন তিনি। তখন তিনি তৃণমূলের যুব সংগঠনে রাজ্য সম্পাদক পদে ছিলেন বলে জানা যায়। তৃণমূল ছাড়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। ইয়াসিরের ব্যক্তিগত জীবনও সেই সময় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। ফিরহাদ হাকিমের বড় মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিমের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়েছিল। তবে কংগ্রেসে যোগদানের আগেই দু’জনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল বলে হাকিম পরিবার সূত্রে জানানো হয়। সেই বিচ্ছেদের পরেই ইয়াসিরের রাজনৈতিক পরিচয় নতুন করে আলোচনায় আসে।
কংগ্রেসে যোগদানের সময় অধীর তাঁকে সামনে রেখে বার্তা দিলেও, প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্ব বদলের পর ইয়াসির দলে প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছিলেন না বলেই অভিযোগ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই কারণেই তিনি নতুন রাজনৈতিক মঞ্চের খোঁজে জনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগ দিলেন। ইয়াসিরের দলবদল প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রোহন মিত্র বলেন, ‘‘আমি যত দূর ইয়াসিরকে চিনি, তিনি একজন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ। নিজের সেই বিশ্বাস থেকেই কংগ্রেস করতে এসেছিলেন। কিন্তু কেন তিনি আচমকা এমন একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেন যা পুরোপুরি ধর্মীয় রাজনীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে? তিনি কংগ্রেস ছেড়ে অন্য একটি রাজনৈতিক দলে যোগদান করেছেন এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। সেটা তার একান্তই নিজের বিষয়। এটুকু বলতে পারি, যে মানুষ একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে পেতে ভাগীরথীর জলে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা বলতে পারে, সেই দলে যোগদান করে কত দূর কাজ করা সম্ভব, তা নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে।’’
প্রদেশ কংগ্রেসের একটি সূত্র জানাচ্ছে, দলে যোগদান করলেও কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেননি ইয়াসির। তাই তাঁর দলত্যাগকে বড় ভাবে দেখতে নারাজ তারা। এই দলবদল ঘিরে আগামী দিনে মুর্শিদাবাদ ও কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়ে, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।