হাটেবাজারে

আগুন শীতের সব্জি

হেমন্তের বাতাসে কেমন যেন আদুরে আমেজ। শীত এল বলে! বাজারেও এখন হরেক রকম চকচকে শাকসব্জির দাম কিছুটা কমেছে। তবে বিট-গাজর, বিনস্‌ ও ক্যাপসিকাম দাম এখনও বেশ চড়া। এখন দক্ষিণবঙ্গের বাজারগুলিতে গড়পড়তা বিট ও গাজরের দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকা।

Advertisement

কিংশুক গুপ্ত

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০১৫ ০১:২৬
Share:

হেমন্তের বাতাসে কেমন যেন আদুরে আমেজ। শীত এল বলে! বাজারেও এখন হরেক রকম চকচকে শাকসব্জির দাম কিছুটা কমেছে। তবে বিট-গাজর, বিনস্‌ ও ক্যাপসিকাম দাম এখনও বেশ চড়া। এখন দক্ষিণবঙ্গের বাজারগুলিতে গড়পড়তা বিট ও গাজরের দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকা। বিনস্‌ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।

Advertisement

শীত এলে মুখিয়ে থাকেন খাদ্য রসিকরা। ঘরে ও বাইরে ভেজিটেবল চপ, গাজরের হালুয়া, ক্যাপসিক্যাম শোভিত চাউমিন, চিলি চিকেন, চিকেন দো পেঁয়াজির মতো হরেক পদের স্বাদটাই যেন বদলে যায় এই মরসুমে। দক্ষিণভারতীয় খাবারেও স্বাদ বেড়ে যায় অনেকখানি। আবার এই সময়টা বিট-গাজরের দাম কমলে লাভের মুখ দেখেন হরেক রকম খাবার দোকান ও রেস্তোঁরার মালিকরা। যেমন, ঝাড়গ্রামের কলেজ মোড়ের একটি প্রসিদ্ধ চপ-মিষ্টির দোকানের মালিক দেবীপ্রসাদ কুণ্ডু বলেন, “সারা বছর দেড়শো টাকা কেজি দরে গাজরের হালুয়া বিক্রি করি। এখন গাজরের দাম ৬০-৭০ টাকা কেজি। শীতের সময় নতুন বিট-গাজর ওঠে। তখন প্রতি কেজি গাজ ২০-৩০ টাকা কেজি দরেও পাওয়া যায়। ওই সময় গাজরের হালুয়া বিক্রি করে বেশি লাভ হয়।” দেবীপ্রসাদবাবুর দোকানে বিট-গাজরের প্রতিটি ভেজিটেবল চপের দাম চার টাকা। শীতের সময় বিটের দাম কমে গেলে তখন চপেও বেশি লাভ।

বাঁকুড়া শহরে কেজি পিছু বিট ৫০ টাকা, গাজর ১০০, বিনস্‌ ১২০, ক্যাপসিকাম ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাচানতলা মোড়ের সব্জি ব্যবসায়ী কানাই দানা বলেন, “বাজারে চাহিদা থাকলেও এই সব্জিগুলির আমদানি তেমন নেই। তাই এখনও দামটা চড়া। তবে প্রতি বছর শীতের সময় আমদানি বাড়লে দর অনেকটাই কমে যায়। বাঁকুড়ার মাচানতলা মোড়ের একটি দক্ষিণী খাবারের রেস্তোরাঁর অন্যতম কর্ণধার প্রশান্ত বরাট বলেন, “ধোসা ও সম্বরে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিট, গাজর, ক্যাপসিক্যাম, বিনস্‌ দিতেই হবে। দাম বাড়লেও না দিয়ে উপায় নেই। এই সব সব্জির দাম বাড়লে লাভের অঙ্কটা কমে যায়।”

Advertisement

ঝাড়গ্রামের জুবিলি বাজারের সব্জি ব্যবসায়ী পরিতোষ পাল হলদিয়ার মাখনবাবুর বাজারের ব্যবসায়ী সর্বানন্দ পাত্র-রা জানান, “এখন বেঙ্গালুরু ও রাঁচি থেকে বিনস্‌ ও ক্যাপসিক্যাম আমদানি করা হচ্ছে। বিট ও গাজর আসে কলকাতা ও পাঁশকুড়ার হিমঘর থেকে। এ জন্য দামটা বেশি। শীতের মরসুমে স্থানীয় সব্জির পাশাপাশি, ভিন্‌ রাজ্যের টাটকা সব্জির আমদানি আরও বাড়লে, তখন দামটা অনেক কমে যায়।”

সপ্তাহ তিনেক আগে হলদিয়ার মাখনবাবুর বাজারে বিনস্‌ ও ক্যাপসিকামের দাম দিন গড়ে ১০০-১১০ টাকা প্রতি কেজি। রবিবার বিনসের দাম কমে হয়েছে ৬০-৭০ টাকা প্রতি কেজি। ক্যাপসিক্যাম বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা। গাজরের অবশ্য দাম কমেনি। এখন নতুন গাজর উঠেছে। কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমার আশা।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement