মিরিক লেকের সামনে রাস্তার উপরে এ ভােবই গাড়ির স্ট্যান্ড। এতে সমস্যায় পড়েন পর্যটক থেকে বাসিন্দা, সকলেই। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক।
দেশের তো বটেই, বিশ্বের পরিচিত অন্যতম একটি বেসরকারি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে দেশ বিদেশের পর্যটকদের সামনে আসতে চলেছে রাজ্য পযর্টন দফতর। সম্প্রতি রাজ্যের পাহাড়, সমুদ্র, হেরিটেজ, সংস্কৃতিকে সামনে রেখে ওই সংস্থার সঙ্গে একসঙ্গে ‘ব্রোশিওর প্যাকেজ’ তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে। দফতর সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি পর্যটন সংস্থা বা এজেন্সিদের কাছ থেকে লিখিতভাবে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। পরামর্শগুলিকে ঝাড়াই-বাছাই করে নানা আকষর্নীয় নাম দিয়ে একাধিক প্যাকেজ তৈরি করা হবে। এই নিয়ে কলকাতায় কয়েক দফায় বৈঠকও হয়েছে। পরবর্তীতে নিজেদের নেটওয়ার্ক ছাড়াও ওই বেসরকারি সংস্থার প্রায় ১৩০০ শাখা দফতর থেকে ব্রোশিওর প্যাকেজের মাধ্যমে রাজ্যের পযর্টন কেন্দ্রগুলির বিজ্ঞাপন, প্রচার এবং ব্যবসাও করা হবে বলে ঠিক হয়েছে। ‘এক্সপেরিএন্স বেঙ্গল- দ্য সুইটেস্ট পার্ট অব ইন্ডিয়া’-এই লোগোকে সামনে রেখেই সমস্ত নতুন প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে।
রাজ্যের পযর্টন দফতরের প্রধান সচিব অজিত রঞ্জন বর্ধন বলেন, ‘‘সরকারি স্তরের বাইরে বার হয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে রাজ্যের পযর্টন প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই বেসরকারি পযর্টন সংস্থাটি দেশে তো বটেই গোটা বিশ্বে অত্যন্ত পরিচিত। তাঁদের পরিকাঠামোকে ব্যবহার করেই বিভিন্ন প্যাকেজের প্রচার এবং ব্যবসা করা হবে। কয়েক দফায় আলোচনার পর কাজকর্ম চলছে।’’ প্রধান সচিব জানান, এর পাশাপাশি গোটা দেশের একটি অত্যন্ত পরিচিত একটি সংস্থার ‘রিটেল আউলেটে’র মাধ্যেও রাজ্যের পর্যটনের প্রচার করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। আপাতত সংস্থাটির আওতায় থাকা দেশের ১০টি রিটেল আউটলেটকে বাছাই করা হয়েছে। পরবর্তীতে তা বাড়ানো হবে।
দফতর সূত্রের খবর, এতদিন অন লাইন বুকিং থেকে বেসরকারি পযর্টন সংস্থার মাধ্যমে ব্যবসা করেছে পযর্টন দফতর। যদিও অনলাইন বুকিং চালু হয়েছে মাত্র কিছু বছর আগে। বিভিন্ন পর্যটন মেলায় প্রচার থেকে আবার সম্ভাব্য পযর্টন ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক। মাঝেমধ্যে সংবাদপত্রে বিভিন্ন প্রকল্পের বিজ্ঞাপন। বছরের পর বছর ধরে এই ভাবেই চলছে রাজ্য পযর্টন দফতরের বিভিন্ন প্যাকেজের বুকিং বা ব্যবসা। তবে তাতে তেমন খুব একটা পেশাদারি মনোভাব কোনওদিনই আসেনি বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। আর দশটা সরকারি দফতরের মতই চলছে পযর্টন দফতর।
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের গজলডোবার মত কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে বেশ কয়েক দফায় হোঁচট খাওয়ার পর কেরল, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ বা উত্তরপ্রদেশ পযর্টন দফতরের মত আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে ‘মাকের্টিং’ করার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে নেন দফতরের আধিকারিকেরা। তার পরেই নিজেদের নেটওয়ার্ক ছাড়াও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের চিন্তাভাবনা বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু হয়। আর তাতে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন পযর্টন সংগঠনগুলির। ইতিমধ্যে সংগঠনগুলির কাছে লিখিতভাবে মতামত, পরামর্শ এবং প্যাকেজ আইডিয়া চাওয়া হয়েছে। ওই বেসরকারি সংস্থার ‘ভারত দেখ’ ব্যানারে বাছাই করা প্যাকেজগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। উল্লেখ্য, ওই সংস্থার ‘দুনিয়া দেখ’ ব্যানারটিও পর্টকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের (এতোয়া) কার্যকরী সভাপতি সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘অনেক দেরিতে হলেও পযর্টন দফতরে গত কয়েক বছর ধরে যে সমস্ত উদ্যোগ নিচ্ছে তা প্রশংসনীয়। যে বেসরকারি সংস্থাটির ব্রোশিওর প্যাকেজ অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেখানে রাজ্যের পর্যটন প্যাকেজগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হলে দেশে তো বটেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রাজ্যের পযর্টনের পরিচিতি আরও বাড়বে।’’
পর্টন দফতর সূত্রের খবর, চিরাচরিত দার্জিলিং পাহাড়, সুন্দরবন বা দিঘার বাইরের এলাকাগুলিকেও সামনে আনার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শান্তিনিকেতন, পুরুলিয়া, বিষ্ণুপুর, মালদহ, কোচবিহার, মুর্শিদাবাদের মত জায়গাকে রাখার কথাবার্তা হয়েছে। সেই সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, প্রিলগ্রিম ট্যুরিজম, হেরিটেজ-কালচারাল ট্যুরিজম বা উইকঅ্যান্ড ট্যুরিজমকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংস্থাকে চিঠি, ই-মেল করে পযর্টন দফতরের তরফে যে সুচিন্তিত মতামত এবং প্যাকেজ আইডিয়া চাওয়া হয়েছে, তাতে প্রত্যেককে দুটি করে প্যাকেজ তৈরির কথা বলা হয়েছে। তার সঙ্গে প্যাকেজের বিস্তারিত তথ্য বা ‘আইটিনারি’ এবং ছবিও চাওয়া হয়েছে। সমস্ত প্যাকেজই পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রিক করা ছাড়াও প্রত্যেক প্যাকেজের খরচ দিতে বলা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে তৈরি হওয়া প্যাকেজগুলি রাজ্য পযর্টন দফতরের প্যাকেজ নামেই ব্রোশিওর প্যাকেজে ঢোকানো হবে বলে ঠিক হয়েছে।