এক রাতে তিন এটিএম কেটে লুঠপাট

এক রাতে গ্যাস-কাটার দিয়ে বর্ধমানের তিন জায়গার এটিএম কেটে টাকা লুঠ করে পালাল দুষ্কৃতীরা। বৃহস্পতিবার রাতে বর্ধমান শহরে জিটি রোডের উপরে দু’টি এবং পানাগড় বাজারের কাছে জাতীয় সড়কের পাশে একটি এটিএম কাউন্টারে হামলা হয়। তিনটি কাউন্টার তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের। ক্লোজ্ড সার্কিট ক্যামেরা বা নিরাপত্তা রক্ষী না থাকায় কারা এই কাণ্ড করেছে, সে সম্পর্কে অন্ধকারে পুলিশ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৫৫
Share:

পুড়েছে পানাগড়ের এটিএম। ডান দিকে, এটিএম কাটা বর্ধমানেও। নিজস্ব চিত্র।

এক রাতে গ্যাস-কাটার দিয়ে বর্ধমানের তিন জায়গার এটিএম কেটে টাকা লুঠ করে পালাল দুষ্কৃতীরা। বৃহস্পতিবার রাতে বর্ধমান শহরে জিটি রোডের উপরে দু’টি এবং পানাগড় বাজারের কাছে জাতীয় সড়কের পাশে একটি এটিএম কাউন্টারে হামলা হয়। তিনটি কাউন্টার তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের। ক্লোজ্ড সার্কিট ক্যামেরা বা নিরাপত্তা রক্ষী না থাকায় কারা এই কাণ্ড করেছে, সে সম্পর্কে অন্ধকারে পুলিশ। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতে পুলিশি নজরদারিতে গাফিলতির সুযোগ নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। তাঁদের বক্তব্য, গ্যাস-কাটার দিয়ে এটিএমগুলি কাটতে কম সময় লাগার কথা নয়। ঠিকঠাক টহল দিলে, ব্যাপারটা পুলিশের নজরে আসত।

Advertisement

অভিযোগ উড়িয়ে জেলা পুলিশের এক কর্তার দাবি, বর্ধমান শহরে অনেক এটিএম কাউন্টার নানা কারণে নানা দিন বন্ধ থাকে বা তার শাটার নামানো থাকে। সে জন্য সন্দেহ হয়নি টহলদার পুলিশের। ওই পুলিশ-কর্তার আর এক যুক্তি, লাগোয়া জেলা বীরভূমের কেঁদুলিতে জয়দেব মেলা চলছে। সে জন্য পানাগড়-মোড়গ্রাম এবং শিবপুর-মুচিপাড়া সড়ক ধরে রাতভর বহু পুণ্যার্থী যাতায়াত করছেন। সে দিকে নজর রাখায় ব্যস্ত রয়েছেন পুলিশকর্মীরা। দুষ্কৃতীরা সেই সুযোগ নিয়েছে। এ ছাড়া বর্ধমান শহরের দুটি এটিএমে লুঠ একই দলের কাজ বলে মনে করছে পুলিশ। পানাগড়ে অন্য দল লুঠ করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা।

মাসখানেক আগে কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে গোটা এটিএম যন্ত্র তুলে নিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। বর্ধমান শহরেও গত অগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম যন্ত্র ভেঙে লুঠ করা হয়। জিটি রোডের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে নীচে ও তার কিছুটা দূরে মার্কেট কমপ্লেক্সের মধ্যে হামলা হওয়া এটিএম কাউন্টার দু’টিতে শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস-কাটার দিয়ে যন্ত্রের বাঁ দিকে লোহার পাত কেটে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সকাল থেকে দু’টি কাউন্টারেই শাটার নামানো ছিল। দুপুরের পরে দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের তিনকোনিয়া ও বড়বাজার শাখায় খবর যায়।

Advertisement

ব্যাঙ্ক দু’টির আধিকারিকদের দাবি, একটি থেকে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা এবং আর একটি থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা খোওয়া গিয়েছে। বড়বাজার শাখার এটিএমটিতে সিসিটিভি থাকলেও সেটি কয়েকদিন ধরেই কাজ করছিল না বলে জানা গিয়েছে। ওই শাখার ম্যানেজার পার্থসারথি মুখোপাধ্যায়ের দাবি, হার্ড-ডিস্ক খারাপ থাকায় কয়েকদিন ধরেই ছবি সংরক্ষিত হচ্ছিল না সিসিটিভিতে। ফলে, এই ঘটনারও কোনও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। আর একটি এটিএমে সিসিটিভি তো দূর, কোনও রক্ষীও ছিল না বলে পুলিশের দাবি। যদিও ওই ব্যাঙ্কের তিনকোনিয়া শাখার ম্যানেজার দীনেশ পান্ডা বলেন, “ওখানে সিসিটিভি ছিল। প্রযুক্তিবিদ এলেই পুলিশের হাতে ফুটেজ তুলে দেওয়া হবে। আমাদের কোনও এটিএমেই রক্ষী থাকে না।”

পুলিশ সূত্রের খবর, তাদের কাছে আশপাশের বাসিন্দা এবং ওই হাসপাতালের কর্মীরা দাবি করেন, লুঠপাটের ব্যাপারে কিছুই টের পাননি তাঁরা। না কোনও শব্দ, না কোনও আলো। এলাকাবাসীর একটা বড় অংশের অভিযোগ, রাতে পুলিশের টহল ছিলই না এলাকায়। যদিও পুলিশের দাবি, লাগোয়া উল্লাস মোড়ের ক্যাম্প থেকে পুলিশ টহল দেয়। বৃহস্পতিবার রাতেও দিয়েছে। কিন্তু এটিএম কাউন্টারের শাটার বন্ধ থাকায় আলাদা করে সন্দেহ হয়নি।

Advertisement

পানাগড়ের এটিএম কাউন্টারে এ দিন গিয়ে দেখা যায়, যন্ত্রটির ভিতর পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছে। আগুন ধরে ক্যামেরা পুড়ে যাওয়ায় ফুটেজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেও ব্যাঙ্কের দাবি। পুলিশের কাছে করা অভিযোগে ওই ব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, এটিএম-যন্ত্রে বৃহস্পতিবারই দুপুরে ১৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ভরা হয়েছিল। তার অধিকাংশটাই লুঠ হয়েছে বলে তাঁদের অনুমান। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, পানাগড় বাজারের গুরুদ্বারের সামনে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএমে নিরাপত্তারক্ষী নেই। আশপাশে তেমন বাড়িঘরও নেই। ফলে, কার্যত বিনা বাধায় লুঠপাট চলেছে।

স্থানীয় কিছু বাসিন্দার টিপ্পনী, ‘‘পাশের জেলার মেলার জন্য বর্ধমান জেলা পুলিশের এই হাল। নিজেদের জেলায় মেলা হলে নিরাপত্তার কী হবে, ভাবুন তো!’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement