ক্যানসারের সঙ্গে লড়তে হাতিয়ার শুধু সচেতনতা

তাকে দমন করে, এমন ওষুধ এখনও নাগালের বাইরে। অন্য দিক থেকে দেখলে ক্যানসারের একটা সহজাত প্রতিষেধক আছে মানুষের মুঠোতেই। সেটা হল সচেতনতা। সতর্কতা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা কলকাতা

শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:২৯
Share:

তাকে দমন করে, এমন ওষুধ এখনও নাগালের বাইরে। অন্য দিক থেকে দেখলে ক্যানসারের একটা সহজাত প্রতিষেধক আছে মানুষের মুঠোতেই। সেটা হল সচেতনতা। সতর্কতা।

Advertisement

তার প্রমাণ বালিগঞ্জের সুমন বিশ্বাস। প্রমাণ কসবার চন্দ্রাণী দে-ও।

দু’সপ্তাহের বেশি হয়ে গেলেও মুখের ঘা সারছিল না সুমনবাবুর। স্থানীয় চিকিৎসক ওষুধ পাল্টে দেন। কাজ হয়নি। ঝুঁকি না-নিয়ে সুমনবাবু চলে যান এক পরিচিত ক্যানসার চিকিৎসকের কাছে। কয়েকটি পরীক্ষা করার পরে ওই চিকিৎসক জানান, মুখের ক্যানসার হয়েছে সুমনবাবুর। তবে প্রথম ধাপ। চিকিৎসার পরে এখন দিব্যি সুস্থ তিনি।

Advertisement

স্নান করতে গিয়ে বাম স্তনে একটি যন্ত্রণাহীন মাংসপিণ্ডের উপস্থিতি টের চন্দ্রাণীদেবী। বাড়িতে জানাতেই স্বামী রীতিমতো স্বামী জোর করে নিয়ে যান চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসক বলেন, ‘‘সময়মতো এসেছেন। জোর বেঁচে গেলেন। প্রথম ধাপের ক্যানসার, সেরে যাবে।’’ ক্যানসারকে হারিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরেছেন তিনি।

শুধু সুমনবাবু বা চন্দ্রাণীদেবী নন, একটু সচেতন হওয়ায় ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিতেছেন অনেকেই। চিকিৎসকেরাও বলছেন, ক্যানসারের সঙ্গে জীবনের লড়াই মোটেই অসম নয়। শুধু একটু আগে আগে চিহ্নিত করতে হবে রোগটাকে।

বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার অ্যাপোলো গ্লেনেগেলস ও হাওড়া নারায়ণ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে বিশেষ আলোচনাসভায় বারবার উঠল এই প্রসঙ্গ। ক্যানসারকে হারিয়ে দিয়েছেন, এমন অনেকেই ছিলেন ওই অনুষ্ঠানে। তাঁরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সকলের সঙ্গে নিজেদের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন। তাঁদের মুখের রেখায় ফুটে উঠছিল আত্মবিশ্বাস।

চিকিৎসকেরা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র আশঙ্কা, ২০২০ সালের মধ্যে ভারতের প্রতিটি পরিবারে অন্তত এক জন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন। অতি দ্রুত মহামারির আকার নিতে চলেছে রোগটা। এর বিরুদ্ধে লড়তে গেলে সাধারণ মানুষ থেকে সরকার সকলকেই একজোট হতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, এর সব চেয়ে ভাল পদ্ধতি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় (স্ক্রিনিং)।

ক্যানসার চিকিৎসক জয় বসু জানান, বিদেশে স্ক্রিনিং করেই ক্যানসার কমানো গিয়েছে। কিন্তু ভারতে সরকারি তরফে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অ্যাপোলো নিজেদের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় স্ক্রিনিং করে প্রাথমিক ভাবে প্রায় ১৩০০ জনের ক্যানসার নির্ণয় করেছে। তাঁদের কারও কারও চিকিৎসা চলছে। কেউ বা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। জয়বাবু বলেন, ‘‘এই উদ্যোগ খুবই সামান্য। তবে সরকার যদি এগিয়ে আসে, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।’’

ক্যানসার চিকিৎসক সৈকত গুপ্ত জানান, স্ক্রিনিং ছাড়াও মানুষ যদি নিজেই ক্যানসারের কিছু সাধারণ উপসর্গ সম্বন্ধে সচেতন হন, তা হলে রোগ নির্ণয় অনেক দ্রুত হবে এবং নিরাময়ও হবে সহজ। তাঁর নিদান: শরীরে অস্বাভাবিক কোনও কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ক্যানসারের প্রাথমিক কিছু উপসর্গ: হঠাৎ গলা ভেঙে যাওয়া, যে-কোনও রকমের আলসার। শরীরে যন্ত্রণাহীন কোনও মাংসপিণ্ডের উপস্থিতি। অবাঞ্ছিত রক্তপাত। এগুলো ঘটতে দেখলেই সাবধান হতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও নতুন উপসর্গ যদি দু’তিন সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তা হলে বুঝতে হবে, কোথাও একটা সমস্যা হচ্ছে। সেটাকে ফেলে রাখা ঠিক নয়।’’

একই মত চিকিৎসক সৌরভ দত্তের। তিনি জানান, রোগী যদি নিজেই নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন হন, ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইটা অনেক সহজ হয়। তাঁর কথায়, ‘‘নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ক্যানসারকে দূরে রাখে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement