কলকাতা থেকে সরছে এটিআর উড়ানের ঘাঁটিও

পরিষেবার বহর কমছিল। এখন একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। শেষমেশ যাত্রিবাহী ছোট বিমানের ঘাঁটিও কলকাতা থেকে সরতে চলেছে। ১৪ বছর আগে ‘এটিআর-৪২’ নামে ৪৮ আসনের ছোট বিমানগুলি কলকাতা থেকে চালাতে শুরু করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া-র সহযোগী অ্যালায়েন্স এয়ার।

Advertisement

সুনন্দ ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:১০
Share:

পরিষেবার বহর কমছিল। এখন একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। শেষমেশ যাত্রিবাহী ছোট বিমানের ঘাঁটিও কলকাতা থেকে সরতে চলেছে।

Advertisement

১৪ বছর আগে ‘এটিআর-৪২’ নামে ৪৮ আসনের ছোট বিমানগুলি কলকাতা থেকে চালাতে শুরু করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া-র সহযোগী অ্যালায়েন্স এয়ার। সেই ২০০২-এ সাতটি বিমান নিয়ে যে পরিষেবার যাত্রা শুরু, এখন তাতে বিমান সাকুল্যে একটা! তা-ও কত দিন থাকবে, নিশ্চয়তা নেই।

অ্যালায়েন্স ইতিমধ্যে ৭০ আসনের পাঁচটা এটিআর-৭২ বিমান ভারতে নিয়ে এসেছে, যার একটাও কলকাতা পায়নি। তিনটে রয়েছে দিল্লিতে। হায়দরাবাদ ও মুম্বইয়ে একটা করে। অর্থাৎ, কলকাতার এটিআর পরিষেবার কার্যত নাভিশ্বাস। অথচ একদা এখান থেকে উত্তর-পূর্বের নানা ছোট শহরে তো বটেই, রাঁচি-পটনা-ভুবনেশ্বরেও এটিআর রমরমিয়ে চলত। এখন সবেধন নীলমণি বিমানটি শুধু শিলচর, শিলং, গুয়াহাটি ও লীলাবাড়ি যাচ্ছে। কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্বের অন্য শহরে এয়ার ইন্ডিয়া বড় বিমান চালালেও এটিআরের অভাবে ওই তল্লাটের সাতটি শহরের মধ্যে উড়ান যোগাযোগ দস্তুরমতো মার খাচ্ছে।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে কলকাতা থেকে এটিআরের ‘ঘাঁটি’ সরানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর-সূত্রের খবর: ঘাঁটি মানে এক ছাতার নীচে সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান, বিমানকর্মী, বিমানসেবিকা, বিমানের যন্ত্রাংশ— সব তৈরি রাখা। যেখানে নিয়মিত বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও ছোটখাটো মেরামতি হয়। এটিআরের জন্য ২০০২ ইস্তক কলকাতায় এই পরিকাঠামো মজুত। এ দিকে কর্তাদের ইচ্ছায় দিল্লি-মুম্বই-হায়দরাবাদে এটিআর পরিষেবা শুরু হলেও সেখানে পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অগত্যা কলকাতা থেকেই ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ, বিমানসেবিকাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মানে, দুর্গম উত্তর-পূর্বের এক শহরের সঙ্গে অন্য শহর ও তাদের সঙ্গে কলকাতাকে আকাশপথে জোড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে কলকাতায় এটিআর-পরিষেবার সূচনা, তার পরিকাঠামোকেই শেষ করে ফেলা হচ্ছে বলে আক্ষেপ বিমান মহলে। একাংশের সংশয়, অদূর ভবিষ্যতে কি উত্তর-পূর্বে ছোট বিমান উড়বে?

পাশাপাশি ঘাঁটি সরানোর তাগিদে কলকাতা থেকে বদলির ‘হিড়িক’ দেখেও অ্যালায়েন্সের অন্দরে ক্ষোভের ছোঁয়া। সূত্রের খবর: ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ, বিমানসেবিকাদের দিল্লিতে পাকাপাকি ভাবে বদলি করা হয়েছে। হায়দরাবাদে বদলির মেয়াদ এক বছর। কলকাতার চার ইঞ্জিনিয়ার ও চার টেকনিশিয়ানকে ১৫ দিনের জন্য মুম্বইয়ে কাজ করিয়ে ফেরানো হচ্ছে। মাসের বাকি পনেরো দিনের জন্য যাচ্ছেন অন্য আট জন!

প্রতিবাদে সংস্থার কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অমিত রায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন। অভিযোগ, এ ভাবে মুম্বই যাতায়াতের পিছনে বিস্তর খরচ হচ্ছে। অন্য দিকে সংস্থা-কর্তৃপক্ষের যুক্তি, তাদের মুম্বই উড়ানে আসন খালি থাকে। এয়ার ইন্ডিয়া’র এক কর্তা জানাচ্ছেন, নর্থ-ইস্ট কাউন্সিলের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৪২ আসনের এটিআর বিমানটি চলবে। তার পরে চালু হবে এটিআর-৭২। তখন কলকাতায় নতুন বিমান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

মিলল জমি

বালুরঘাট ও মালদহে বিমানবন্দর গড়ার জন্য এক টাকার বিনিময়ে জমি দিতে চেয়ে রাজ্যের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন বিমানবন্দর-কর্তৃপক্ষ। সেই প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। পরিবহণসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার জানান, সরকারের সম্মতিপত্র পাঠানো হচ্ছে। বালুরঘাটে ১৩২ এবং মালদহে ১১৪ একর জমি দেবেন বিমানবন্দর-কর্তৃপক্ষ। চূড়ান্ত চুক্তির পরে পূর্ত দফতর ওই দু’টি বিমানবন্দর তৈরির কাজে নামবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement