চাবির গোছা নিয়ে হা-পিত্যেশ করে বসে আছেন তিনি! যেমন-তেমন জায়গার নয়। সারদা গোষ্ঠীর খাস ডায়মন্ড হারবার রোডের অফিসের চাবি। অথচ নেওয়ার কেউ নেই!
পুলিশকে তিনি বারবার বলেছেন চাবিগুলো তাঁর কাছ থেকে নিয়ে যেতে। ওই অফিসে তদন্তে যাওয়া এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র অফিসারদেরও আর্জি জানিয়েছেন, চাবি নিয়ে যান। কেউ কর্ণপাত করেনি। বাধ্য হয়ে এ বার সল্টলেক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিশ্বজিৎ রায়। যিনি কিনা সারদা-কাণ্ডের বিবিধ মামলার মধ্যে একটিতে অভিযুক্তও বটে।
৭ জুন সল্টলেক এসিজেএম কোর্টে বিশ্বজিৎবাবুর তরফে আবেদন করেন তাঁর কৌঁসুলি শান্তনু সিংহ। কোর্টকে তিনি বলেন, তাঁর মক্কেল চাবি জমা করতে চাইলেও কেন্দ্রীয় ইডি কিংবা রাজ্য পুলিশ কেউ সাড়া দেয়নি। এমতাবস্থায় আদালতই বলে দিক, চাবি কোথায় জমা করা হবে।
বিশ্বজিৎবাবুর মামলাটিতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। মঙ্গলবার পুলিশের তরফে তা পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ-সূত্রের খবর: তদন্তকারী অফিসার অসুস্থ হয়ে পড়ায় আদালতে আসতে পারেননি, ফলে বক্তব্যও জমা পড়েনি। আদালতের নির্দেশ: ২৪ জুন তদন্তকারী অফিসারকে কোর্টে এসে চাবি প্রসঙ্গে পুলিশের বক্তব্য জানাতে হবে।
কিন্তু বিশ্বজিৎবাবুর সঙ্গে ওই চাবির গোছার কী সম্পর্ক?
পুলিশ-সূত্রের খবর: বিশ্বজিৎবাবু সারদার কর্মী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে টাকা ফেরত না-দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সব্যসাচী ভড় নামে সারদার এক এজেন্ট, যার ভিত্তিতে ২৮ এপ্রিল সল্টলেকের পাঁচ নম্বর সেক্টর থানার পুলিশ বিশ্বজিৎবাবুকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, বিশ্বজিৎবাবু সারদা-কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাই সারদা-কেলেঙ্কারির ব্যাপারে অনেক তথ্য তাঁর গোচরে রয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন ২ মে অবশ্য বিশ্বজিৎবাবু জামিন পেয়ে যান। ২৭ মে ইডি’র তদন্তকারীরা তল্লাশি অভিযানে গিয়েছিলেন ৪৫৫, ডায়মন্ড হারবার রোডে সারদার ওই অফিসে। বিশ্বজিৎবাবুর কৌঁসুলির বক্তব্য: তখন অফিসের চাবি ছিল তাঁর মক্কেলের হেফাজতে। তাঁর কাছ থেকে চাবি নিয়েই ইডি-অফিসারেরা অফিসে খানা-তল্লাশি করেন, এবং চাবি আবার ওঁঁকেই ফেরত দিয়ে যান। এ দিকে পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশও তাঁর কাছ থেকে চাবি নেয়নি। “আমার মক্কেলকে বিপদে ফেলার জন্যই চাবি নেওয়া হচ্ছে না।” অভিযোগ করেছেন কৌঁসুলি। পুলিশ বা ইডি’র কী বক্তব্য?
সল্টলেক পুলিশের এক কর্তার বক্তব্য: যা বলার, কোর্টকেই বলা হবে। ইডি-র তরফে কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি।