জেএমবি জাল ছড়াচ্ছে ফের, নজরে দুই জেলা

এ রাজ্যে ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য হাতে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র।

Advertisement

সুরবেক বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:১৭
Share:

এ রাজ্যে ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য হাতে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র।

Advertisement

গত অক্টোবরে, বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের বছর খানেক বাদেও যখন ডজন খানেকের বেশি অভিযুক্ত ফেরার, এনআইএ-র এক শীর্ষকর্তা দাবি করেছিলেন— ‘‘ওরা ধরা পড়েনি ঠিকই। তবে আমরা এ দেশে ওদের সংগঠনের কোমর ভেঙে দিতে পেরেছি।’’

তার পরে চার মাস গড়িয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার সেই একই কর্তা এখন বলছেন— ‘‘ইউসুফ গাজির নেতৃত্বে ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে জেএমবি। সংগঠন ছড়াতে চাইছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। কয়েক জন নতুন সদস্যও ওখানে পেয়েছে তারা।’’ গোয়েন্দারা এমনও ভয় পাচ্ছেন— খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে এনআইএ যে সাফল্য পেয়েছে, তার বদলা নিতে এই রাজ্যেও বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে ইউসুফের নেতৃত্বে জেএমবি ।

Advertisement

গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকার মিরপুরে জেএমবি-র একটি ডেরায় হানা দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ১৬টি গ্রেনেড উদ্ধার করে, গ্রেফতার করা হয় ছ’জনকে। এনআইএ-র একটি সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তাঁদের জানিয়েছেন— গ্রেনেডগুলি পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছিল বলে জেরায় জানিয়েছে ধৃত জঙ্গিরা। সেগুলি খাগড়াগড় বিস্ফোরণের আগে তৈরি, না পরে— গোয়েন্দারা তা খতিয়ে দেখছেন।

তদন্তকারীরা জেনেছেন, খাগড়াগড়ের ঘটনার প্রায় এক বছর পরে, গত সেপ্টেম্বরেও অসমের বরপেটায় প্রশিক্ষণ শিবির করেছিল জেএমবি। পশ্চিমবঙ্গেও এ রকম কিছু হয়েছে কি না, সেটা এখন গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানের বিষয়। এনআইএ সূত্রের খবর, মাস খানেক আগে বসিরহাট থেকে ঘোজাডাঙা সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে ইউসুফ ‘জেহাদের’ নামে বহু মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং‌ থেকে কয়েক জন যুবক সেই সময়ে ইউসুফের সঙ্গে দেখা করতে বসিরহাটে যায় তারা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নিযুক্ত জেএমবি-র সদস্য বলে গোয়েন্দারা জেনেছেন।

খাগড়াগড় বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, বর্ধমানের মঙ্গলকোটের কৃষ্ণবাটী গ্রামের বাসিন্দা মৌলানা ইউসুফ শেখ-ই জেএমবি-র ভারতীয় সদস্যদের চাঁই। বিস্ফোরণের পর থেকেই ইউসুফ ফেরার। তার সন্ধান জানালে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও করেছে এনআইএ। তদন্তকারীরা জেনেছেন, খাগড়াগড়ের ধাক্কা সামলে জেএমবি-কে নতুন করে গড়ে তুলতে ইউসুফকে সহযোগিতা করছে ফেরার দুই অভিযুক্ত— কদর কাজী ও বোরহান শেখ। এরা দু’জনেই আইইডি বা ঘরোয়া বিস্ফোরক তৈরিতে সিদ্ধহস্ত। গোয়েন্দাদের দাবি, কিছু দিন আগেও মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায় দেখা গিয়েছে কদরকে। বোলপুরের নিমড়া গ্রামের কদর জেএমবি-র আর এক ফেরার চাঁই কওসর ওরফে বোমারু মিজানের শ্যালক। এই কওসর বাংলাদেশি নাগরিক।

আবার গোয়েন্দারা যাকে জঙ্গি প্রশিক্ষণের মূল ঘাঁটি বলে চিহ্নিত করেছিলেন, মঙ্গলকোটের সেই শিমুলিয়া মাদ্রাসা নতুন করে তৈরি হওয়ার কথা ছিল শিমুলিয়া চটিতে। তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিল স্থানীয় যুবক বুরহান শেখ। সম্প্রতি বুরহানকে লালগোলা রেল স্টেশনে দেখা গিয়েছে বলে এনআইএ-র একটি সূত্রের দাবি। এনআইএ-র এক অফিসারের বক্তব্য, ইউসুফ ও তার দুই শাগরেদ জেহাদের কথা বলে অল্পবয়সীদের মগজধোলাই করছে। এই দলে কয়েক জন রাজমিস্ত্রি, এমনকী কাগজকুড়ানিও রয়েছে। ওই অফিসারের কথায়, ‘‘জেএমবি এ বার দুই ২৪ পরগনায় জাল ছড়াতে চাইছে। কারণ এর আগে যে যে জেলায় তাদের অস্তিত্ব ছিল, সেই মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান, নদিয়া ও মালদহ আগে থেকেই আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’’

এই পরিস্থিতিতে জেএমবি-র ওই তিন জনকে ধরতে উঠে পড়ে লেগেছেন গোয়েন্দারা। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার এক কর্তা বলেন, ‘‘এই তিন ভারতীয়র গতিবিধির খবর এ দেশেই পাওয়া যাচ্ছে।’’ তিনি জানান, খাগড়াগড়ে অভিযুক্ত ও ফেরার পাঁচ বাংলাদেশির নামে হুলিয়া জারি করে আগেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেই তাদের গতিবিধির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সে কথা বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের জানানো হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement