দমকল ঘুষ-কাণ্ড

দেওয়াল খুঁড়ে আধ কোটি

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার দমকলের তিন অফিসারকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য দুর্নীতিদমন শাখা (এসিবি)। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই তিন অফিসারের মধ্যে বাসুদেব গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক জন স্পেশ্যাল ফায়ার ইন্সপেক্টর রয়েছেন। তাঁকে জেরা করে তদন্তকারীরা কিছু তথ্য পান।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৫ ০৪:২৫
Share:

ঠিক যেন গুপ্তধন!

Advertisement

রান্নাঘর, শৌচাগারের দেওয়াল খুঁড়ছেন পুলিশকর্মীরা, আর বেরিয়ে আসছে গোছা গোছা নোট। সব মিলিয়ে অঙ্কটা প্রায় আধ কোটি।

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার দমকলের তিন অফিসারকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য দুর্নীতিদমন শাখা (এসিবি)। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই তিন অফিসারের মধ্যে বাসুদেব গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক জন স্পেশ্যাল ফায়ার ইন্সপেক্টর রয়েছেন। তাঁকে জেরা করে তদন্তকারীরা কিছু তথ্য পান। তার ভিত্তিতেই শনিবার সন্ধ্যায় বাসুদেববাবুকে তাঁর নৈহাটি গরিফার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় শাবল, গাঁইতিও।

Advertisement

এসিবি সূত্রের খবর, বাসুদেববাবু তদন্তকারীদের কয়েকটি দেওয়ালের কিছু নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দেন। সেগুলি খুঁড়তেই লুকোনো টাকার সন্ধান মেলে। রাত পর্যন্ত তল্লাশি চলেছে। এসিবি-র এক কর্তা বলছেন, ‘‘দেওয়ালে অজস্র ফোকর তৈরি করে টাকা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সব মিলিয়ে রাত পর্যন্ত প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, নৈহাটি এলাকার এক যুবক হোটেল ব্যবসার জন্য দমকলের লাইসেন্সের আবেদন জানান। সেই লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বাসুদেববাবু ও বাকি দুই অফিসার কয়েক হাজার টাকা ঘুষ চান। তার পরেই ওই যুবক ভবানী ভবনে এসিবি-র দফতরে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ওই তিন জনকে ধরতে ঘুষের ফাঁদ পাতেন গোয়েন্দারা এবং তাঁরা সেই ফাঁদেই ধরা দেন বলে এসিবি-র কর্তাদের দাবি।

Advertisement

তদন্তকারীদের একটি সূত্র জানাচ্ছেন, বৃহস্পতিবার বাসুদেববাবুকে পাকড়াও করার পরেই তাঁর গরিফার বাড়িতে এক দফা তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সে সময় ব্যাঙ্কের কাগজপত্র-সহ বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। কিন্তু টাকার খোঁজ মেলেনি। এর পরেই আদালতের নির্দেশে বাসুদেববাবুকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এসিবি। দফায় দফায় জেরা শুরু করেন গোয়েন্দারা। সেই জেরাতেই তিনি বাড়িতে লুকনো টাকার কথা জানান বলে তদন্তকারীদের ওই সূত্রের দাবি।

এ দিন রাতে বাসুদেববাবুর বাড়ির তল্লাশি দুর্নীতিদমন শাখার অফিসারদের স্মৃতিতে উস্কে উঠেছে বালির ঘুষ কাণ্ডের কথা। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে পাকড়াও করা হয়েছিল বালি পুরসভার সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার প্রণব অধিকারীকে। তাঁর ঘুসুড়ির বাড়ির মেঝে, বসার ঘরের সোফা, দেওয়াল এমনকী অব্যবহৃত কমোডের মধ্যেও টাকার হদিস মিলেছিল। সব মিলিয়ে অঙ্কটা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২১ কোটি টাকা।

এ দিন গরিফার চড়কতলা মোড়ের কাছে ওই অফিসারের বাড়ির সামনে পৌঁছতেই নজরে এল দাঁড়িয়ে রয়েছে একাধিক পুলিশের গাড়ি। ভেতরে তল্লাশি চলছে। বাইরেও মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি ভিড় জমিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, এলাকায় গোবেচারা মানুষ হিসেবেই পরিচিত বাসুদেববাবু। বিশেষ ঠাটবাট কখনও নজরে পড়েনি। উল্টে এলাকায় কিছুটা মিতব্যয়ী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। একতলা বসতবাড়িটিও বেশ পুরনো। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, বছর কয়েক আগে পুরনো বাড়িটি কিনেছিলেন তিনি। ‘‘এমন এক জনের বাড়িতে আধ কোটি টাকা— ভাবতেই পারছি না,’’ মন্তব্য এক স্থানীয় বাসিন্দার।

টাকার অঙ্কে এখনও বালির ইঞ্জিনিয়ারকে ছুঁতে না পারলেও এই স্বভাবের দিক থেকে কিন্তু বাসুদেববাবু ও প্রণববাবুর মিল অনেক। নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা প্রণববাবুর মধ্যেও এলাকার মানুষ তেমন ঠাটবাট দেখেননি। ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর মা জানান, সংসার চালাতে বাবা-মাকে মাসে মাত্র ৫০০ টাকা করে প্রণব।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement