পাতার দাম তলানিতে নেমে আসায় পুজো বোনাস দূর অস্ত, সরকারি নিয়ম মেনে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দেওয়া সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে ক্ষুদ্র চা চাষি মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও চা শ্রমিক নেতৃত্ব বোনাসের দাবিতে অনড়। ওই পরিস্থিতিতে খোদ চাষি মহলে প্রশ্ন ঘুরছে, পুজোর মুখে কি এবার ছোট বাগানেও ‘লক আউটের’ মতো সমস্যা দেখা যাবে।
কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, “টানা আড়াই মাস থেকে পাতার দাম নেই। গত বছর ৫৮ দিন দাম মেলেনি। ওই পরিস্থিতিতে পুজো বোনাস পরের কথা। সরকারি নিয়ম মেনে শ্রমিকদের ১২২ টাকা দৈনিক মজুরি দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।” যদিও ক্ষুদ্র চা চাষি সংগঠনের নেতৃত্বের পুজো বোনাস না দিতে পারার অবস্থান মানছেন না চা শ্রমিক নেতৃত্ব। চা শ্রমিক সংগঠনের কো-অর্ডিনেশন কমিটির আহ্বায়ক চিত্ত দে বলেন, “বোনাস দিতেই হবে। জানি ছোট চা বাগানগুলিতে পাতার দাম নিয়ে সমস্যা আছে। কিন্তু সেটা নিয়ে আন্দোলন হতে পারে। পুজো বোনাস এবং সরকারি নিয়ম মেনে মজুরি দিতে পারব না এসব বলে লাভ নেই।”
ক্ষুদ্র চা চাষিদের সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, তরাই এবং কোচবিহার জেলায় ৪০ হাজার ছোট চা বাগান রয়েছে। প্রায় এক লক্ষ শ্রমিক এখানে কাজ করেন। পাতার দাম কমে যাওয়ায় তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চাষিরা জানান, উত্তরবঙ্গের মোট চা উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ পাতা ছোট বাগান থেকে আসে। গত বছর এখানে ৩১৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। তাঁর মধ্যে প্রায় ১২৬ মিলিয়ন কেজি চা তৈরি হয়েছে ছোট বাগানের পাতা থেকে। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য এবার এমনিতে বাগানগুলির কাহিল দশা। তাঁর উপরে মরশুমের শুরু থেকে পাতার দাম ক্রমশ কমে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে। জলপাইগুড়ি ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সভাপতি অপূর্ব রায় বলেন, “মাঝে কয়েকদিন কেজি প্রতি পাতার দাম ১১ টাকা ছিল। মঙ্গলবার সেটা হয়েছে ৮ টাকা। অথচ এক কেজি পাতার উৎপাদন খরচ প্রায় ১৩ টাকা। ওই পরিস্থিতিতে বোনাস দেওয়া অসম্ভব!”
চা চাষিদের অভিযোগ, পাতার দাম যখন ১১ টাকা কেজি হয় তখন বেশিরভাগ বাগানে পাতা ছিল না। গত জুলাই মাস থেকে ভরা মরশুমে পাতার দাম ৩ টাকা থেকে ৭ টাকা কেজির মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। ওই অবস্থায় লোকসানের মুখে পড়ে দিশেহারা শতাধিক চাষিদের অনেকে পাতা কেটে ফেলে দিয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের রামগঞ্জে চাষিদের একাংশ বাগানের চা গাছ তুলে ফেলেছে। ওই জেলার ক্ষুদ্র চা চাষি সংগঠনের সম্পাদক দেবাশিস পাল বলেন, “পাতার দাম নেই। খরচ উঠছে না। চাষিরা বাগানের গাছ তুলে ফেলছেন। পুজো বোনাসের কথা ভাবতে পারছি না।” নর্থ বেঙ্গল স্মল টি প্ল্যানটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক নিতাই মজুমদার বলেন, “শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে চাষিরা বাগান বন্ধ রাখতে বাধ্য হবে। কারণ সামনে কোন পথ খোলা নেই।”