মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর ছাড়া রাজ্যের অন্যত্র অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে কংগ্রেস। এই অবস্থা থেকে দলকে বের করে আনতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী আন্দোলনের নানা কর্মসূচি যেমন নিচ্ছেন, তেমনই সাংগঠনিক দিক থেকেও কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন। তাঁর কথায়, ‘‘শুধু উত্তরবঙ্গে নয়, কংগ্রেস যে সারা বঙ্গেই আছে, তা মানুষের কাছে আমাদের প্রমাণ করতে হবে।’’ মূলত এই বার্তা দিতেই আজ, রবিবার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে কলকাতার সব ক’টি ওয়ার্ডের দলীয় নেতা-কর্মীদের বৈঠক ডেকেছেন অধীর।
আগামী বিধানসভা ভোটের আগে ভাঙন-বিধ্বস্ত এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার দলকে সাংগঠনিক দিক থেকে মজবুত করতেই এ দিনের বৈঠক হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতেও এ ধরনের বৈঠক হবে বলে কংগ্রেস সূত্রের খবর। সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা এবং শাসক দলের ‘সন্ত্রাস’-এর প্রতিবাদে আন্দোলনও চলবে। ইতিমধ্যেই বিদ্যুতের মাসুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে জেলায় জেলায় আন্দোলন শুরু করেছে কংগ্রেস। আবার সবং কাণ্ডে দলের প্রবীণ বিধায়ক মানস ভুঁইয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনেও দলকে সামিল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অধীর। আগামী মঙ্গলবার ‘নবান্ন অভিযানে’রও ডাক দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। সবংয়ে ছাত্র খুন ও পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় মেয়ো রোডে গাঁধী মূর্তির পাদদেশেও অবস্থান-বিক্ষোভ করবে দল। অধীর জানান, এই সমস্ত আন্দোলন সফল করতেও দলকে সাংগঠনিক দিক থেকে মজবুত করা দরকার। তাই তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বামেদের ‘নবান্ন অভিযান’ কর্মসূচি হয়েছে। এর পর ২ সেপ্টেম্বর কয়েকটি জাতীয় শ্রমিক সংগঠনের ডাকে সাধারণ ধর্মঘটেও সাধারণ মানুষের সাড়ায় বামেরা উৎসাহিত। নিজেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতে কংগ্রেসও কি বামেদের পথে হাঁটছে? এই প্রশ্নের জবাবে অধীর অবশ্য বলেন, ‘‘একদমই নয়। আমি সভাপতি হওয়ার পর দু’বার শহিদ মিনারে সমাবেশ করেছি। মিছিল, জেলায় জেলায় সমাবেশও হয়েছে। বলা যেতে পারে, কংগ্রেসকে দেখেই এখন আন্দোলনের পথে হাঁটছে বামেরা।’’