পোকার আক্রমণে বিপাকে বেগুন চাষি

বাজারে দাম নেই, মুখ ভার চাষির

রোগের ধাক্কায় উৎপাদন কম। আবার ভিন রাজ্যে চাহিদা নেই বলে দামও কম। দুইয়ে মিলে বেগুন চাষ করে এ বার রীতিমতো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। এতই তীব্র সেই ক্ষতি, যে বনগাঁর বাজিতলা এলাকার চাষি নঈম মণ্ডল সাড়ে তিন বিঘে জমির বেগুন তুলে ফেলে সেখানে সর্ষে লাগিয়েছেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:১২
Share:

শুকিয়ে যাচ্ছে ফলন। ছবি: নির্মাল্য প্রামাণিক।

রোগের ধাক্কায় উৎপাদন কম। আবার ভিন রাজ্যে চাহিদা নেই বলে দামও কম। দুইয়ে মিলে বেগুন চাষ করে এ বার রীতিমতো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা।

Advertisement

এতই তীব্র সেই ক্ষতি, যে বনগাঁর বাজিতলা এলাকার চাষি নঈম মণ্ডল সাড়ে তিন বিঘে জমির বেগুন তুলে ফেলে সেখানে সর্ষে লাগিয়েছেন। অনেকে আবার ঝুঁকি নিয়েই চাষ করেছেন। স্থানীয় ভাগচাষি নাজমুদ্দিন জানালেন, পুজোর আগের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। জল শুকিয়ে যাওয়ার পর ফের বেগুন করেছেন তিনি। কিন্তু দিন কাটছে উদ্বেগে। ‘‘দেড় বিঘে জমি ১৫ হাজার টাকায় লিজে নিয়েছি। বেগুনে কীটনাশক, সার প্রচুর লাগে। তাতেও খরচ কম নয়। কিন্তু বেগুন বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চার টাকা কিলোগ্রাম। ফলে খরচ উঠবে কিনা জানি না।’’

গাইঘাটার রামপুরের চাষি বিকাশ সরকারের ধান ও পাটের ক্ষতি হয়েছিল বন্যায়। জল নামার পর তিনি সাড়ে তিন বিঘে জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু বাজার নেই দেখে শঙ্কিত তিনি। বিকাশবাবু জানালেন, ‘‘এখান থেকে তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহারে মাকড়া বেগুন ট্রাক বোঝাই করে শীতের মরসুমে চলে যায়। এবার যে কোনও কারণেই হোক ওই সব রাজ্যে বেগুনের চাহিদা কম। স্থানীয় বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে, ফলে দাম কম পাওয়া যাচ্ছে।’’ তিনি জানান, অন্য বছর দুর্গাপুজোর সময় বেগুন পাইকারি বিক্রি হয় ২০-২২ টাকা । এবার তা হয়েছে ১৫ টাকা কিলোগ্রাম। তবে তাঁর আশা, ‘‘বেগুন চাষে লাভ না হলেও খরচের টাকা উঠে যাবে।’’ কোনও কোনও চাষির আবার মনে হচ্ছে, বেগুন খেলে অ্যালার্জি হচ্ছে, তাই মানুষের মধ্যে বেগুন খাওয়ার প্রবণতা কমেছে।

Advertisement

জেলার উপকৃষি অধিকর্তা অরূপ দাস অবশ্য বলছেন, উৎপাদন বেড়েছে বলেই দাম কমেছে বেগুনের। ‘‘সব্জি চাষ লাভজনক হওয়ায় বহু চাষি ওই চাষে আগ্রহী হয়েছেন। উৎপাদন হয়েছে স্বাভাবিক। দাম বেশি না পাওয়ার একটি কারণ।’’ বনগাঁ ব্লকের সহকারী কৃষি আধিকারিক শঙ্করকুমার বিশ্বাসও বলছেন, ‘‘ধান চাষে তেমন লাভ হওয়ার কারণে চাষিরা সব্জি চাষে ঝুকেছেন। ফলে অন্য বছরের তুলনায় মোট উৎপাদন বেড়েছে।’’

চাষিদের যখন মুখ ভার, তখন হাসিমুখ গৃহস্থের। দাম কম হওয়ায় তাঁরা বাজারে গিয়ে ব্যাগ ভর্তি করে সব্জি কিনছেন। ফুলকপি ও বাঁধাকপি খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা। সিম ১৫ টাকা। বাজারফিরতি এক গৃহকর্তার কথায়, ‘‘যে ক’টা দিন সব্জির দাম কম থাকে, প্রাণ ভরে খেয়ে নিই। দাম বাড়লে তো ফের বাজেট করতে হবে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement