কেনাকাটায় সতর্ক হতে বলে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে ক্রেতা সুরক্ষা দফতর। এ বার সেই দফতরেরই মন্ত্রী অভিযোগ করলেন, খাস কলকাতার বড়বাজার এলাকায় ভেজাল দুধ বিক্রি হচ্ছে।
জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বুধবার একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল ক্রেতা সুরক্ষা দফতর। মহানগর জুড়ে ভেজাল খাদ্য বিক্রি এবং তা প্রতিরোধে কী করা উচিত, সেটাই ছিল মূল আলোচ্য।
সভার পরে ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে জানান, শহরের বেশ কিছু জায়গায় ভেজাল খাবার বন্ধ করতে বাড়তি তৎপরতা চাই। তার পরেই বড়বাজারের কথা তুলে তিনি বলেন, ‘‘ওখানে দুধের মধ্যেও ভেজাল দেয় কেউ কেউ। যেটা ভীষণ ভয়ঙ্কর।’’
ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
‘‘ক্রেতা সুরক্ষা দফতরে এই নিয়ে অনেক অভিযোগ আসে। কিন্তু ভেজাল খাবার ধরার ক্ষমতা তো আমাদের দফতরের নেই। আমরা শুধু ক্রেতাকে সচেতন করতে পারি,’’ জবাব সাধনবাবুর। ভেজাল ধরে ব্যবস্থা নেবে কে? ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী জানান, এই সব ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারী রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর এবং কলকাতা পুরসভা। পুরো বিষয়টি তাদের জানানো হচ্ছে।
ক্রেতা সুরক্ষা দফতর সূত্রের খবর, শহরে মানুষকে ঠকানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকানে বা হাটে-বাজারে, এমনকী সোনার গয়নার দোকানে ওজনের কারচুপি ধরতে অভিযান চালানো হয়। জরিমানা বাবদ প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা আদায়ও হয় সরকারের। ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানান, সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ওজনে কারচুপি ধরতে অভিযান চালানো হয়েছে বিভিন্ন পুর বাজারে। ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে ট্যাবলো নিয়ে প্রচারও চালানো হয়েছে।
দুধে ভেজাল ধরে পরিস্থিতির মোকাবিলায় কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর কী করছে?
পুরসভার পক্ষে স্বাস্থ্য দফতরের মেয়র-পারিষদ অতীন ঘোষ বলেন, ‘‘সাধনদা প্রবীণ মন্ত্রী। বড়বাজারে কোথায় ভেজাল দুধ বিক্রি হয়, সেই ব্যাপারে ওঁর কাছে নিশ্চয়ই কোনও খবর আছে। আমাদের কাছে তেমন কোনও অভিযোগ জমা পড়লে অবশ্যই তা দেখা হবে।’’
মেয়র-পারিষদ জানান, পুরসভা ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে নানা সময়ে অভিযান চালায়। পুজোর মরসুমেও বিভিন্ন এলাকায় খাবারে ভেজাল ধরতে বেরিয়েছিল পুরসভার দল।
আর রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘মন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে কিছু বলব না। তবে স্বাস্থ্য দফতরে নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।’’
সাধনবাবুর মন্তব্য, ভেজাল রোধে কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে লোকবল খুবই কম। প্রয়োজনে তাঁর দফতরও সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।