বন্ধ হয়ে গেল চন্দননগরের লোক আদালত। চটকল অধ্যুষিত চন্দননগর মহকুমায়, গঙ্গার দু’পাড়ে ছড়িয়ে থাকা চটকলগুলিতে মালিক-শ্রমিক বিরোধ নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে, ছোট-বড় সেই সব সমস্যা মেটানোর ভরসাস্থল হয়ে উঠেছিল ওই লোক আদালত। তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গঙ্গা-পাড়ের চটকল শ্রমিক মহল্লায় তাই হতাশা। শ্রম-বিরোধের পাশাপাশি চন্দননগরের ওই লোক আদালতে নিয়মিত অন্য সমস্যা নিয়েও সালিশি হত বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে, শ্রম-বিরোধ সংক্রান্ত সমস্যা মেটানো প্রাধান্য পেত ওই লোক আদালতে। শ্রমিকদের দাবি, আদালত বন্ধ হয়ে গেলেও তা নিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলির কোনও হেলদোল চোখে পড়েনি। প্রবীণ সিটু নেতা শান্তশ্রী চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘কেন বন্ধ হল তা ভাল করে না জেনে মন্তব্য করব না।’’ আর, লোক আদালত বন্ধ হয়ে য়াওয়ার খবরই জানেন না শাসক দলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র স্থানীয় নেতা বিদ্যুত রাউত। বরং এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে জাতীয় লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটি-র কাছে দরবার করেছে চন্দননগরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। শ্রমিক স্বার্থে নিখরচায় আইনি পরামর্শ দেওয়া ওই সংস্থার পক্ষে বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘দুঃস্থ শ্রমিকদের বকেয়া আদায়ে লোক আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে, অধিকাংশ জুটমিল কর্তৃপক্ষ এই ধরনের আদালতের পক্ষপাতি নন।’’ জেলার অধিকাংশ মিল কর্তৃপক্ষ অবশ্য সে অভিযোগ মানতে চাননি।