মালদহে দুর্ঘটনায় মৃত ৩

মেয়ের বৌভাত থেকে ফেরার পথে মৃত্যু মায়ের

একটি ছোট গাড়িতে করে ১৫ জন মিলে ফিরছিলেন বৌভাতের অনুষ্ঠান থেকে। গাড়িটি দ্রুত চলছিল। সেই সঙ্গে ছিল কুয়াশা। তার উপরে রাস্তায় একটি বাঁকের মুখে পড়ে চালক আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৪:১৮
Share:

দুর্ঘটনার পরে শোকের ছায়া পরিবারে। বুধবার মনোজ মুখোপাধ্যায়ের তোলা ছবি।

একটি ছোট গাড়িতে করে ১৫ জন মিলে ফিরছিলেন বৌভাতের অনুষ্ঠান থেকে। গাড়িটি দ্রুত চলছিল। সেই সঙ্গে ছিল কুয়াশা। তার উপরে রাস্তায় একটি বাঁকের মুখে পড়ে চালক আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। মালদহের হবিবপুর থানার বেগুনবাড়ি এলাকায় গাড়িটি একটি গাছে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান দু’জন। পরে মারা গিয়েছেন আরও এক জন। আহত হয়েছেন দু’টি শিশু ও চার মহিলা সহ ১২ জন।

Advertisement

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বামনগোলার বাসিন্দা প্রহ্লাদ হালদারের সঙ্গে বিয়ে হয় পুরাতন মালদহের বাচামারির বাসিন্দা নবকুমার হালদার ও ময়না হালদারের কন্যা সাধনার। এ দিন বামনগোলায় প্রহ্লাদবাবুদের বাড়িতে ছিল বৌভাত। নবকুমারবাবুরা একটি বাস ও ছোট গাড়ি নিয়ে
মেয়ের বৌভাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন রাতে কুয়াশা পড়ে জেনেও কেন একটি ছোট গাড়িতে ১৫ জন উঠেছিলেন? নবকুমারবাবু বলেন, ‘‘আসলে আরও আগে আমাদের বেরোনোর কথা কথা ছিল। দেরি হয়ে যায়। তখন বাসে গেলে আরও দেরি হয়ে যাবে আশঙ্কায় অনেকেই গাদাগাদি করেই ছোট গাড়িটিতে উঠে পড়েন।’’ তিনি জানান, তখন বারণ করা হলেও কেউ শোনেননি। বাচামারি থেকে বামনগোলা ৭০ কিলোমিটার দূরে। যেতে প্রায় দু’ঘণ্টা লাগে। ছোট গাড়িতে একটু সময়
কম লাগে।

ওই ছোট গাড়িতেই ছিলেন ময়নাদেবী (৪২)। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তাঁদেরই আত্মীয় সমর হালদার (৪২)। সমরবাবুর পাশে বসেছিলেন নবকুমারবাবুদের পড়শি অলক হালদার (২৮)। ঘটনাস্থলেই মারা যান সমরবাবু ও অলকবাবু। কি‌ছু ক্ষণের মধ্যেই কনেযাত্রীদের বাসটি এসে পড়ে। তাঁরা তখন নেমে সকলকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসকেরা ময়নাদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহতেরা সেই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।

Advertisement

ইংরেজবাজার থানার আমজামতলার বাসিন্দা সিদাম হালদার সপরিবারে বৌভাতের নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, ফেরার পথে হবিবপুরে বেগুনবাড়ি এলাকায় রাস্তার উপরে বড় বাঁক ছিল। সেই সঙ্গে ছিল কুয়াশাও। গাড়িটিও চলছিল জোরে। তিনি বলেন, ‘‘চালক বাঁক সামলাতে না পেরে ধাক্কা দেয় রাস্তার ধারের একটি গাছে। আমরা সকলেই ছিটকে পড়ি।’’ তাঁর স্ত্রী উৎপলাদেবী ও দুই ছেলেও আহত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ-নালাগোলা রাজ্য সড়কের উপরে হবিবপুরের বেগুনবাড়িতে রাস্তার উপরের এই বাঁকটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা এড়াতে এবং গাড়ির গতি যাতে কম থাকে তার জন্য রাস্তার মাঝে দেওয়া রয়েছে রোড ডি ভাইডার। কুয়াশার জন্য
চালক ওই ডিভাইডার দেখতে পাননি বলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান। সেই সঙ্গে গাড়ির গতিও বেশি ছিল।

শীতে বিয়ের মরসুমে প্রায়ই এমন ভাবেই অতিরিক্ত লোক নিয়ে ছোট গাড়ি রাতে যাতায়াত করে। তাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব। বিয়ে বাড়ির গাড়ি হলেও ছাড় পাবে না। রাতে রাস্তায় টহলদারিও বাড়াচ্ছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement