কলকাতা থেকে উদ্বোধন করেছিলেন। এ বার এই বাংলোতেই থাকার কথা মমতার। — ফাইল চিত্র।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের জন্য রাতারাতি বদলে দেওয়া হয়েছে প্রায় শ’দেড়েক সাধারণ পর্যটকদের গন্তব্য। এই ঘটনায় পর্যটন ব্যবসার উপরে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বাম আমলেও প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সফরের জন্য অনেক সময় এ ভাবে রাতারাতি সাধারণ পর্যটকদের বুকিং-ই বাতিল করে দেওয়া হত। কিন্তু এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিক ও দলের নেতাদের একটি বড় দল থাকায় তুলনায় অনেক বেশি ঘর তাঁদের দিয়ে দিতে হচ্ছে। তাই প্রভাব পড়ছে অনেক বেশি। যেমন, এ বার ১ নভেম্বর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মমতা থাকবেন বলে ডুয়ার্সের জয়ন্তীর বিভিন্ন লজ ও হোম স্টে মিলিয়ে অন্তত দিন প্রতি ২০টি করে ঘরের বুকিং বাতিল করতে হয়েছে। এই পর্যটকদের জয়ন্তীর বদলে চিলাপাতা, বক্সা এবং কয়েকজনকে আলিপুরদুয়ার শহরে থাকার বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছে। ইস্টার্ন ডুয়ার্স রিসর্ট মালিকদের সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি পার্থসারথি রায় বলেন, ‘‘যে পর্যটকেরা জয়ন্তীতে এই ক’দিন থাকার জন্য বুকিং করেছিলেন, ফোন করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে অন্যত্র থাকার বন্দোবস্ত করে দেওয়া হচ্ছে। তবে পর্যটকদের অনেকেই অসন্তুষ্ট।’’
কলকাতার বাগুইহাটির এক পর্যটক বলেন, ‘‘আমরা তিনটি পরিবার জয়ন্তীতে ২ ও ৩ নভেম্বর বুকিং করেছিলাম। ফোনে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীর সফর রয়েছে বলে জয়ন্তীতে থাকা যাবে না। বক্সা পাহাড়ে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’ একই কথা বলেন হাবড়ার এক পর্যটক। তিনি বলেন, ‘‘পুজোর সময় বুকিং পাইনি, দীপাবলির সময় আমাদের আট জনের দলের জয়ন্তীতে বুকিং ছিল। জায়গাটি খুব সুন্দর। কিন্তু বলা হল, বক্সায় গিয়ে থাকতে হবে। আবার কবে জয়ন্তী যেতে পারব কে জানে?’’ তাঁরা কেউই অবশ্য নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশও মনে করছেন, এই ভাবে নিজের পছন্দ মতো গন্তব্য বদলে যাওয়ায় পর্যটকেরা ডুয়ার্সের প্রতি বিমুখ হতে পারেন।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আসতে পারেন জেনেও কেন বুকিং নেওয়া হল? পার্থসারথিবাবু বলেন, ‘‘এখন ট্রেনের টিকিট অনেক দিন আগে থেকে পাওয়া যায়। সেই মতো পর্যটকেরাও অনেক আগে থেকে বুকিং করে ফেলেন। কোনও সরকারি কর্তার আসার খবর তত দিন আগে থেকে আমাদের কাছে থাকে না।’’ বস্তুত, পর্যটন ব্যবসায়ীদের কাছে এখনও সরকারি ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়ার খবর নেই। মুখে মুখে শুনে তাঁরাই নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে পর্যটকদের যাতে পুরোপুরি নিরাশ হতে না হয়, তার ব্যবস্থা করছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য এ বার নজিরবিহীন ভাবে চার দিনে তিন হাজার পুলিশকর্মী থাকছেন। অস্থায়ী হেলিপ্যাড বানাতে গাছের ডাল ছাঁটা ও থানা চত্বর পরিষ্কার করতে
দু’টি গাছ কাটা নিয়ে পরিবেশবিদরা সরব হয়েছেন। তবে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডিএফডি হরি কৃষ্ণণ বলেন, “বক্সার ২৮ মাইল এলাকায় হেলিকপ্টার নামার সুবিধের জন্য একটি গাছের উপরের অংশ ও একটি গাছের ডাল ছাঁটা হয়েছে। গাছগুলি এতে মরে যাবে না।’’