শিক্ষার ভ্রমণে দুর্ঘটনা, পুরুলিয়ায় মৃত দুই

ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণে বেরিয়ে বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দুই শিক্ষকের। জখম হল পাঁচ পড়ুয়া। শনিবার গভীর রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে পুরুলিয়ার হুড়ার লধুড়কার কাছে, পুরুলিয়া-বাঁকুড়া ৬০(এ) জাতীয় সড়কে। পুলিশ জানায়, তমলুকের কুরপাই হাইস্কুলের ওই দুই শিক্ষকের নাম অমিত সামন্ত (৩৬) ও লক্ষ্মণচন্দ্র আদক (৩৮)। অমিতবাবু পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদার কাছে হাকোলা গ্রাম ও লক্ষ্মণবাবু তমলুকের বারখণ্ডের বাসিন্দা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ ০৪:১১
Share:

ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণে বেরিয়ে বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দুই শিক্ষকের। জখম হল পাঁচ পড়ুয়া। শনিবার গভীর রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে পুরুলিয়ার হুড়ার লধুড়কার কাছে, পুরুলিয়া-বাঁকুড়া ৬০(এ) জাতীয় সড়কে। পুলিশ জানায়, তমলুকের কুরপাই হাইস্কুলের ওই দুই শিক্ষকের নাম অমিত সামন্ত (৩৬) ও লক্ষ্মণচন্দ্র আদক (৩৮)। অমিতবাবু পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদার কাছে হাকোলা গ্রাম ও লক্ষ্মণবাবু তমলুকের বারখণ্ডের বাসিন্দা।

Advertisement

স্কুলের একাদশ শ্রেণির জনা ষাট পড়ুয়াকে ঝাড়খণ্ডের দাসম ফলস নিয়ে যাচ্ছিলেন অমিতবাবু, লক্ষ্মণবাবু-সহ পাঁচ শিক্ষক। শনিবার দুপুরে কুরপাই থেকে বাসটি ছাড়ে। রাত ২টো নাগাদ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাল্টি খেয়ে ধান জমিতে গিয়ে পড়ে। টহলদার পুলিশের নজরে আসায় তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শুরু হয়। তবে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চালকের পাশে ও পিছনে বসে থাকা দুই শিক্ষকের। বাসের সামনে থাকা জনা পাঁচেক ছাত্রছাত্রী চোট পাওয়ায় পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে স্নিগ্ধা মাইতি নামে এক জনকে বিকেলে বাড়ির লোকেরা নিয়ে যান। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পড়ুয়ারা জানায়, বাসে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও রাঁধুনি মিলিয়ে প্রায় ৭০ জন থাকায় সবাইকে কষ্ট করে বসতে হচ্ছিল। স্নিগ্ধার কথায়, ‘‘বিষ্ণুপুরে অসুবিধে হওয়ায় বাসের দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ জোরে ব্রেক কষায় ছিটকে পড়ি। মাথায়, পিঠে চোট পাই। দেখলাম কাত হয়ে উল্টে গেল বাসটা।” স্কুলের এক শিক্ষক পূর্ণদাস সোরেন বলেন, ‘‘চালকের বোধহয় ঝিমুনি এসে গিয়েছিল। আচমকা দেখলাম বাসটা রাস্তা থেকে নেমে উল্টে গেল। মাথার পিছনে লেগেছে।’’ দুর্ঘটনার পরেই চালক পালায়। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বাসে গ্যাস সিলিন্ডারও ছিল। অমিতবাবুর বাবা ধনঞ্জয় সামন্ত বলেন, ‘‘ওদের বেড়ানোর নেশা ছিল। দু’জনেই বছরে কয়েক বার বেড়াতে যেত। ২৫ ডিসেম্বর ঝাড়খণ্ডে যায়। তাই এ বার স্কুলের পড়ুয়াদেরও সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement