হাওড়ার সালকিয়া স্কুল রোডে একটি আবাসনে চিকিৎসক পিতা-পুত্র নগেন্দ্র রাই ও নীতেশ রাইকে হেনস্থা এবং শাসানি দেওয়ার ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার তথা তৃণমূল বিধায়ক সোনালি গুহর। সেই ঘটনার তদন্ত-রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার কথা আজ, মঙ্গলবার। ঘটনাচক্রে তার আগের দিন আদালতে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আনলেন নগেন্দ্রবাবু। সোমবার হাওড়ার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তিনি অভিযোগ করেন, দু’সপ্তাহ কেটে গেলেও পুলিশ তদন্ত শুরু করা দূর অস্ৎ, এফআইআর হিসেবেও তাঁদের অভিযোগ নথিভুক্ত করেনি। নগেন্দ্রবাবুর আইনজীবী চিন্ময় চৌধুরী এ দিন বিচারকের কাছে আর্জি জানান, পুলিশ যেন অবিলম্বে সোনালি গুহ-সহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। যে ১৬টি ধারায় মামলা করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান চিন্ময়বাবু, তার মধ্যে কয়েকটি জামিন-যোগ্য, কয়েকটি জামিন-অযোগ্য। এমনকী, তদন্তভার যাতে গোলাবাড়ি থানার হাত থেকে নিয়ে সিআইডি-কে দেওয়া হয়, বিচারকের কাছে সে আর্জিও জানানো হয়। আদালত অবশ্য বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনাধীন রেখে অন্য এক জন ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ওই বিচারক সব দিক খতিয়ে দেখে রায় দেবেন।
সালকিয়ার ওই আবাসনে ঘটনাটি ঘটে ১১ ডিসেম্বর। লিফ্ট বন্ধ থাকা নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত। নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত লিফ্ট চলার কথা। কিন্তু ওই রাতে সাড়ে ন’টা নাগাদ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায় লিফ্ট। নগেন্দ্রবাবুর অভিযোগ, সাড়ে ১২টা নাগাদ আবাসনের একতলার বাসিন্দা বেদপ্রকাশ তিওয়ারি নামে এক যুবক ১৫-২০ জন বাইরের লোক নিয়ে চারতলায় তাঁর ফ্ল্যাটে এসে তাঁকে বাইরে ডেকে নিয়ে যান। এর পরেই শুরু হয় বেধড়ক মারধর, জুতোপেটা। বেদপ্রকাশ পাল্টা অভিযোগ করেন, ওই চিকিৎসকই জোর করে লিফ্ট বন্ধ রেখেছিলেন।
নগেন্দ্রবাবুর আরও অভিযোগ ছিল, রাত দেড়টা নাগাদ তাঁরা যখন থানায় অভিযোগ জানাতে যাচ্ছেন, তখনই আবির্ভাব ঘটে সোনালির। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কিছু পুলিশকর্মী। বেদপ্রকাশের পক্ষ নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে সোনালি নগেন্দ্রবাবুকে শাসান বলে অভিযোগ। এমনকী হুমকিও দেন, ‘আই অ্যাম দ্য ম্যান অব সিএম। আই অ্যাম দ্য গভর্নমেন্ট।’। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে আবাসনের সিসিটিভি ক্যামেরাতে।
১২ ডিসেম্বর ঘটনাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন নগেন্দ্রবাবু। কিন্তু ওই ঘটনা আদৌ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে কি না, তা জানতে আদালতের দ্বারস্থ হয় হাওড়া সিটি পুলিশ। তাদের যুক্তি ছিল, দু’পক্ষের দায়ের করা অভিযোগে এমন কিছু অপরাধের উল্লেখ নেই যা আদালতগ্রাহ্য। সুতরাং আদালতের নির্দেশ না পেলে তদন্ত শুরু করা হবে না। ওই ঘটনায় শাসক দলের বিধায়ক তথা ডেপুটি স্পিকার সোনালি গুহ জড়িত বলেই কি তদন্তে অনীহা পুলিশের, স্বাভাবিক ভাবেই উঠেছিল সেই প্রশ্নও।
শেষমেশ গত ১৫ ডিসেম্বর, সোমবার আদালত পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে। জানায়, ঘটনায় তদন্ত করে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, রিপোর্ট পেয়ে আদালত ফের নির্দেশ দিলেই বিষয়টি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করে তারা সোনালি-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।