হোর্ডিং-ই সার। মহানন্দার পাড়ে শুকোচ্ছে কাপড়।— নিজস্ব চিত্র।
পরিকল্পনাই সার। বাস্তবে হাল ফেরেনি মালদহের গৌড়, আদিনা এবং জগজ্জীবনপুরের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলির। যার ফলে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় পর্যটকদের। শুধু মাত্র পিকনিকের মরসুমে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমান এই কেন্দ্রগুলিতে। এর জন্য পর্যটকেরা দায়ী করেছেন সরকারি উদ্যোগকেই। রবীন্দ্রনাথ পান্ডে, রাধা সরকারদের মতো ভ্রমণ প্রিয় মানুষেরা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে ঘুরে দেখার প্রচুর বিষয় রয়েছে। কিন্তু রাত্রিবাস দূর অস্ত্ দিনের বেলাই থাকার জায়গা নেই। খাওয়া দাওয়ারও ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া এলাকার রাস্তাঘাট বেহাল। আলো নেই।
ব্যবসায়ী মহলও প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভে ফুঁসছেন। মালদহের ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘‘পর্যটন চাঙ্গা হলে জেলার অর্থনীতির হাল ফিরবে। ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুবাবু পরিকল্পনা নিলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি।’’
বছর দুয়েক আগে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে ঢেলে সাজার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন পর্যটন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। গৌড়, আদিনা এবং জগজ্জীবনপুরকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তিনি। বিদেশি সংস্থার সঙ্গে কথা বলে সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলি ঘুরে দেখেছিলেন। পর্যটন কেন্দ্রগুলির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে হোর্ডিং, ব্যানারও লাগানো হয়েছিল। তা ছাড়া মহানন্দা ও তার পা়ড় নতুন করে সাজানো হয়। কিন্তু সরতেই পর্যটন কেন্দ্রগুলি নিয়ে আর কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে কৃষ্ণেন্দুবাবু বলেন, ‘‘বহু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কাজ শুরু হলে পর্যটনে নতুন দিশা পাবে জেলা।’’ মন্ত্রীকে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে শুনে আসছি পর্যটন কেন্দ্র গুলি সাজানো হবে। বাস্তবে হোডিং, ব্যানার টাঙানো ছাড়া কিছু হয়নি। বাম আমলে যে টুকু হয়েছিল। সেই পর্যন্তই রয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু বাবু সংশ্লিষ্ট দফতরের দায়িত্বে থাকার সময় গৌড়, আদিনা এবং হবিবপুরের বৌদ্ধবিহার নিয়ে একাধিক উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। জেলা পরিষদের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থানগুলির সৌন্দর্যায়নের কাজও করা হবে বলে ঠিক হয়। মালদহের জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী বলেন, খুব শ্রীঘই এই কাজগুলি শুরু হয়ে যাবে। ফলে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলি আলাদা রূপ পাবে। পিকনিকের মরসুম আসতে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাই জেলার মানুষ দ্রুত কাজ শুরু করে শেষ করার দাবি তুলেছেন।