খোঁজ নেই ১০ হাজারেরও বেশি শরণার্থী শিশুর। অভিভাবকহীন এই শিশুরা ইউরোপে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অপরাধ বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা ইউরোপোল। এই নিখোঁজ শিশুদের একটা বড় অংশ যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছে বলেও সন্দেহ গোয়েন্দাদের। ইউরোপে শরণার্থী সঙ্কট গত দেড়-দু’বছরে মারাত্মক চেহারা নিয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই শিশুরা নিখোঁজ হয়েছে বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।
ইউরোপোলের প্রধান ব্রায়ান ডোনাল্ড বলছেন, ‘‘একটি আন্তর্জাতিক পাচারচক্র এই মুহূর্তে গোটা ইউরোপ জুড়েই খুব সক্রিয় রয়েছে।’’ সেই চক্রটির হদিস পেতে মরিয়া পুলিশ। জোর তল্লাশি চলছে জার্মানি, হাঙ্গেরিতে। বিশেষ নজর রয়েছে গ্রিসেও।
ইউরোপোলের প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, শুধুমাত্র ইতালি থেকেই ইতিমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। সুইডেনে সেই সংখ্যাটা এক হাজার। সব মিলিয়ে তাই সংখ্যাটা দশ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয় বলেই মত ইউরোপোল প্রধানের।
একই সঙ্গে গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ ইউরোপোলের এই হিসেব শুধুই নথিভুক্ত শরণার্থী পরিবারের ভিত্তিতে। কিন্তু একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, শরণার্থী হিসেবে নাম নথিভুক্ত হয়নি এমন বহু পরিবার এখনও ছড়িয়ে রয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে। নানা দেশের শরণার্থী শিবির থেকে শিশুদের যৌন নির্যাতনের খবর উঠে আসছে প্রায় রোজই। তাই এই নিখোঁজ শিশুদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্রমশ চড়ছে আশঙ্কার পারদ। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া, ইরাক তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে আফগানিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে গত এক বছরে ১০ লক্ষেরও বেশি শরণার্থী ইউরোপে এসে পৌঁছেছে আশ্রয়ের খোঁজে। এর অন্তত ২৭ শতাংশ শিশু-কিশোর। সব মিলিয়ে তাই ২ লক্ষ ৭০ হাজার শরণার্থী শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েই চিন্তিত ইউরোপোল।
ব্রায়ান অবশ্য আশার আলোও দেখিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘নিখোঁজ শিশুদের সবাই যে অপরাধচক্রের খপ্পরে পড়েছে, এমনটা না-ও হতে পারে।’’ এদের খোঁজে ইতিমধ্যেই অভিযানে নেমেছে ইউরোপোলের পুলিশ। ফলে নিখোঁজ শিশুদের অনেককেই দ্রুত পরিবারের কাছে ফেরানো হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।