পাক যুদ্ধবিমান বহর। ছবি: সংগৃহীত।
ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আমেরিকা-ইরান আলোচনা শুরুর আগে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিমানের বহর পাঠাল পাকিস্তান। পাক বায়ুসেনার এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন, জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সামরিক পরিবহণ বিমান সি-১৩০ হারকিউলিস, জ্বালানিবাহী আইএল-৭৮ এবং অত্যাধুনিক রেডারযুক্ত বিমানও ‘এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ (অ্যাওয়াক্স) পাঠানো হয়েছে বলে সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে পাক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি, ইরানের প্রতিনিধিদলকে নিরাপদে ইসলামাবাদে নিয়ে আসার জন্যই পাকিস্তান তাদের বিমানবহর পাঠিয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরদের আশঙ্কা, তেহরান থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছনোর সময় ইজ়রায়েলি হামলার শিকার হতে পারেন ইরানের প্রতিনিধিরা। সে কারণেই এই ‘আয়রন এসকর্ট’-এর বন্দোবস্ত। ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং চিনের সহায়তায় আমেরিকার সঙ্গে দু’সপ্তাহের অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান। যুদ্ধবিরতির শর্ত এবং মেয়াদ চূড়ান্ত করতে শনিবার থেকে ইসলামাবাদে শুরু হবে বৈঠক।
১৯৭৯ সালের ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের পরে এই প্রথম বার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর সঙ্গে থাকবেন পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা তথা প্রাক্তন উপদেষ্টা জারেড কুশনার। অন্য দিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলে থাকবেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গালিবাফ ইরান সেনার ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রাক্তন আধিকারিক। বৈঠকের প্রথম পর্বে যোগ দেবেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারও। সম্ভাব্য ইজ়রায়েলি হামলা ঠেকাতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইরানের বন্দর আব্বাসের আকাশে ‘আয়রন এসকর্ট’-এর জন্য পাক বায়ুসেনার উপস্থিতি রয়েছে শুক্রবার সকাল থেকেই।