ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি বাংলাদেশে। ছবি: রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলাদেশে। সরকার নির্বাচনের জন্য ভোট দেওয়ার পাশাপাশি আরও একটি বিষয়ে মত দেবেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-তে ভোট দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভোটের ফল প্রকাশ করতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার মহম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এ বারের ভোটগণনায় বেশি সময় লাগতে পারে। তার কারণ অবশ্যই সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট। এর আগেও বাংলাদেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট এই প্রথম। প্রাথমিক ভাবে কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের পরের দিন অর্থাৎ, শুক্রবার সকালেই গণনা সম্পন্ন হবে এবং ভোটের ফল জানা যাবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনেকেই বলছেন, ভোটের ফল ঘোষণা হতে হতে বিকেল গড়িয়ে যেতে পারে।
সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য পৃথক ব্যালটের ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটারেরা একসঙ্গে দুই জায়গায় ভোট দেবেন। গণভোটের ব্যালট থাকবে রঙিন। গণনার সময়েও দু’টি ব্যালট একসঙ্গে গোনা হবে। ফলও ঘোষণা হবে একসঙ্গে। সংসদ নির্বাচনের ফল বা গণভোটের ফল আগে-পরে ঘোষণা হলে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। তাই একসঙ্গে গণনা এবং একসঙ্গে ফলঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ‘‘শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে গণনা শেষ হবে। এ বার দুটো ব্যালটে একসঙ্গে ভোট দেওয়া হবে। এর সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের গণনা রয়েছে। ফলে গণনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। এই জিনিসটা আমাদের সকলকে একটু বিবেচনায় রাখতে হবে। কেন্দ্রের গণনা আগে হয়ে গেলেও রিটার্নিং অফিসারের কাছে পোস্টাল ব্যালটের গণনায় সময় লাগবে। এক জন রিটার্নিং অফিসারের কাছে একাধিক আসন থাকলে আরও বেশি সময় লাগবে।’’ তবে যত দ্রুত সম্ভব ভোটের ফল প্রকাশ করতে বদ্ধপরিকর কমিশন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বাংলাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত। মোট ২৯৯টি আসনে ভোট হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ভোটে লড়ছে। প্রার্থীর সংখ্যা ২০২৮। তাঁদের মধ্যে মহিলা রয়েছেন ৮৩ জন। ২০ জন মহিলা কোনও দলের টিকিট ছাড়াই স্বতন্ত্র ভাবে লড়ছেন। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট গণঅভ্যুত্থানের জেরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে চলে আসেন শেখ হাসিনা। তার পরেই মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশে ভোট আয়োজন করা ছিল ইউনূসের অন্যতম লক্ষ্য।