Submarine in Arabian Sea

আরব সাগরে পারমাণবিক ডুবোজাহাজ মোতায়েন করে দিল ব্রিটেন! সঙ্গে রয়েছে টর্পেডো এবং দূরপাল্লার ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্রও

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই ডুবোজাহাজটিকে আরব সাগরে মোতায়েন করেছে ব্রিটেন। সংঘর্ষ আরও বৃদ্ধি পেলে এখান থেকে যে কোনও দূরপাল্লার নিশানায় আক্রমণ শানাতে পারবে তারা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ১০:৫৫
Share:

সমুদ্রের মাঝে ডুবোজাহাজ। —ফাইল চিত্র।

পরমাণুশক্তিচালিত ডুবোজাহাজ এ বার আরব সাগরে পাঠিয়ে দিল ব্রিটেন। ডুবোজাহাজের সঙ্গে রয়েছে দূরপাল্লার টমাহক ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র। সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানাচ্ছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। শুক্রবারই ভারত মহাসাগরে দিয়েগো গ্রাসিয়া দ্বীপে ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ঘটনাচক্রে, তার পরের দিনই এই পারমাণবিক ডুবোজাহাজ মোতায়েনের খবর প্রকাশ্যে এল।

Advertisement

ব্রিটিশ নৌসেনার এইচএমএস অ্যানসন ডুবোজাহাজটি আরব সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ডুবোজাহাজের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু শক্তিশালী টর্পেডো। ইরানের মিনাব শহরের প্রাথমিক স্কুলে যে ক্ষেপণাস্ত্রটি আছড়ে পড়েছিল, সেটিও ছিল টমাহক। সেই হামলা আমেরিকা না ইজ়রায়েল, কে করেছিল, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে ওই ক্ষেপণাস্ত্রের বিধ্বংসী ক্ষমতা ইতিমধ্যে গোটা বিশ্ব দেখেছে। এ বার সেই ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েই আরব সাগরে মোতায়েন হল ব্রিটেনের এইচএমএস অ্যানসন। যদিও এই তথ্য তাৎক্ষণিক ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেই জানাচ্ছে রয়টার্স। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দাবি করা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই ডুবোজাহাজটিকে আরব সাগরে মোতায়েন করেছে ব্রিটেন। সংঘর্ষ আরও বৃদ্ধি পেলে এখান থেকে যে কোনও দূরপাল্লার নিশানায় আক্রমণ শানাতে পারবে তারা। অনুমান করা হচ্ছে, সেই কৌশলগত সুবিধার জন্যই ডুবোজাহাজটি পাঠানো হয়েছে আরব সাগরে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কিছু টমাহক ব্লক-৪ ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্পেয়ারফিশ টর্পেডো নিয়ে চলতি মাসের শুরুর দিকেই অস্ট্রেলিয়ার পার্থের উপকূল সংলগ্ন এলাকা ছেড়ে আরব সাগরের দিকে রওনা দেয় এইচএমএস অ্যানসন। প্রায় ৮,৮০০ কিলোমিটারের জলপথ পাড়ি দিয়ে সেই ডুবোজাহাজটি সম্প্রতি আরব সাগরে এসে পৌঁছেছে।

Advertisement

পারমাণবিক এই ডুবোজাহাজটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর সমুদ্রপৃষ্ঠে ভেসে ওঠে। নর্থউডে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ‘পার্মানেন্ট জয়েন্ট হেডকোয়ার্টার্স’-এর সঙ্গে সেই সময় যোগাযোগ করে ডুবোজাহাজটি। বস্তুত, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত যে কোনও হামলার নির্দেশ সামরিক বাহিনীর এই যৌথ সদর দফতর থেকেই পাঠানো হয় ডুবোজাহাজে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরে ইরানের নিশানায় রয়েছে ব্রিটেনও। ওই অঞ্চলে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলিকে সীমিত পরিসরে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে মার্কিন বাহিনীকে। অনুমান করা হচ্ছে, সেই কারণেই ব্রিটিশ ঘাঁটিকেও নিশানা করতে শুরু করেছে ইরান। যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে সাইপ্রাসে এক ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন আছড়ে পড়েছিল। এর পরে শনিবার ভারত মহাসাগের দিয়েগো গ্রাসিয়ায় ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পর পর দু’টি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ওই ঘাঁটি ইরান থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে। ইরানের যে এত দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করার ক্ষমতা রয়েছে, তা মার্কিন বাহিনীর ধারণার বাইরে ছিল বলে দাবি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement