Iran War

ইরানের সরকার কি বদলানো সম্ভব? তেহরানে হামলা চালানোর আগে কী বলেছিলেন মোসাদের প্রধান

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রশ্ন যখন গোয়েন্দাপ্রধানকে করেছিলেন নেতানিয়াহু, তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানে গদি উল্টে দেওয়া তখনই সম্ভব, যদি সে দেশের নেতৃত্ব এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করে দেওয়া যায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ১৯:১০
Share:

—ফাইল চিত্র।

ইরানের সরকার বদলে দেওয়া কি সম্ভব? তেহরানে হামলা চালানোর আগে মোসাদ (ইজ়রায়েলের গোয়েন্দা) প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রশ্ন যখন গোয়েন্দাপ্রধানকে করেছিলেন নেতানিয়াহু, তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানে গদি উল্টে দেওয়া তখনই সম্ভব, যদি সে দেশের নেতৃত্ব এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করে দেওয়া যায়।

Advertisement

শুধু তা-ই নয়, মোসাদ প্রধান বার্নিয়া এটাও জানিয়েছিলেন যে, ইরানের অভ্যন্তরে গণবিক্ষোভের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আর সেই গণবিক্ষোভ তৈরি করতে গেলে মোসাদ এবং আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে একযোগে কাজ করতে হবে। বেশ কয়েকটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্নিয়া আরও জানিয়েছিলেন যে, যদি ইরান প্রশাসনের মাথাগুলিকে খতম করে দেওয়া যায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে যদি গোড়া থেকে একেবারে দুর্বল করে দেওয়া যায়, তা হলে বাকি কাজটা মোসাদ এবং সিআইএ করে দিতে পারবে। এই দুই গোয়েন্দা সংস্থাই ইরানবাসীদের গণবিক্ষোভের পথে নামিয়ে দেওয়ার ভিত্তি তৈরি করে দিতে পারবে এবং বিকল্প রাস্তা খুঁজে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করে দিতে পারবে।

তবে এই লক্ষ্যে কত তাড়াতাড়ি পৌঁছোনো সম্ভব হবে তা নির্ভর করবে পরিস্থিতির উপর। সে ক্ষেত্রে লক্ষ্যপূরণের সময় দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে বলেও মোসাদপ্রধান নেতানিয়াহুকে জানিয়েছিলেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, মোসাদপ্রধানের কাছ থেকে এই রিপোর্ট পাওয়ার পরই নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানবাসীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন যে, সরকার বদলের সময় এসেছে। শুধু তা-ই নয়, দুই রাষ্ট্রপ্রধান ইরানবাসীদের উদ্দেশে এটাও ঘোষণা করেছিলেন যে, এটাই সুযোগ সরকার বদলানোর, এটাকে হাতছাড়া করবেন না। আর এই বদলে তাঁদের পাশে থাকবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল, এই আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। তার পর সামরিক সংঘাতের তিন সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। কিন্তু দুই রাষ্ট্রপ্রধান ইরানের সরকার বদলের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ এখনও সম্ভব হয়নি। বরং তাঁরা এখন ইরানের সেনা এবং অস্ত্রভান্ডার কী ভাবে খর্ব করা যায়, সে দিকেই নজর দিচ্ছেন। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবারই মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গবার্ড দাবি করেছেন যে, ইরানের সরকার বদলানো এত তাড়াতাড়ি সম্ভব না হলেও, ইরান প্রশাসনকে দুর্বল করে দেওয়া গিয়েছে। যদি এই জমানা টিকে যায়, তা হলে সেনা এবং সামরিক ক্ষমতা আবার মজবুত করার চেষ্টা করবে তেহরান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement