’৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাকে ডাকা হতো 'নাজিমে আলা'। মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রাণদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামিকে এই খেতাব দিয়েছিলেন পাকিস্তানি সেনারা। সেই নিজামিকেই পরে ২০০১ সালে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দিয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া।
আজ বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৪ সদস্যের একটি বেঞ্চ নিজামির প্রাণদণ্ডের সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেওয়ার ফলে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের পথে আর কোনও বাধা থাকল না। তবে, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার একটি শেষ সুযোগ রয়েছে নিজামির। এ ক্ষেত্রে নিজের 'দোষ স্বীকারের' শর্ত থাকায় অতীতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের দু'জন (কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামান) সেই 'শেষ সুযোগ'টা নেননি। অন্য দু'জন (মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের) দোষ স্বীকার করে আবেদন করলেও, তা নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি। ইতিমধ্যেই ওই চার জনের প্রাণদণ্ডের সাজা কার্যকর করেছে সরকার। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘‘নিজামি চাইলে দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন।’’
আরও পড়ুন- সামর্থ নেই, পেটের খিদে মেটাতে চুরি করাটা অপরাধ নয়, বলল ইতালির কোর্ট
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ এবং ঢাকার বুদ্ধিজীবীদের গণহত্যার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তা আংশিক মঞ্জুর করে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট।
এ দিকে, নিজামির ফাঁসির দণ্ড বহাল থাকার খবরে সকাল থেকেই শাহবাগে অবস্থান করা গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা উল্লাশ প্রকাশ করে আনন্দ মিছিল বের করেন। একই সঙ্গে দ্রুত ফাঁসি কার্যকরেরও দাবি জানান তাঁরা।