US-Iran Conflict

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের সচিবকে সরিয়ে দিলেন ট্রাম্প! দিচ্ছেন নতুন পদ, কারণ নিয়ে নানা মুনির নানা মত

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিদায়ী সচিবকে আমেরিকার সুরক্ষার জন্য বিশেষ দূত হিসাবে নিয়োগ করছেন তিনি। এই সূত্রেই পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন একটি উদ্যোগের কথা শনিবার ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৫
Share:

আমেরিকার স্বরাষ্ট্র (হোমল্যান্ড সিকিয়োরিটি) দফতরের বিদায়ী সচিব ক্রিস্টি নোয়েম এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকার স্বরাষ্ট্র (হোমল্যান্ড সিকিয়োরিটি) দফতরের সচিব ক্রিস্টি নোয়েমকে সরিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন আমেরিকার ওকলাহোমা প্রদেশের রিপাবলিকান সেনেটর মার্কওয়েন মুলিন। আগামী ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন আমেরিকার নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব।

Advertisement

কী কারণে ক্রিস্টিকে সরালেন, সরাসরি তার ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। তবে তাঁর প্রশংসা করে লিখেছেন, “উনি (ক্রিস্টি) ভাল করেছেন।” বিশেষত আমেরিকার সীমান্তরক্ষায় বিদায়ী সচিব ভাল কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ক্রিস্টিকে আমেরিকার সুরক্ষার জন্য বিশেষ দূত হিসাবে নিয়োগ করছেন তিনি। এই সূত্রেই পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন একটি উদ্যোগের কথা শনিবার ফ্লরিডা থেকে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

দীর্ঘ দিন ধরেই ট্রাম্প পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন। এই যুক্তিতে যেমন তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলেছেন, তেমনই কিউবাকেও শেষ করার কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার কিউবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেষ করতে চাই।’’ একই সঙ্গে তিনি হাভানাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘শুধু সময়ের অপেক্ষা।’’ এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প পশ্চিম গোলার্ধের সুরক্ষা বন্দোবস্তের কথা বলে কিউবা এবং গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে। অন্য একটা অংশের দাবি, মার্কিন আইনসভার দুই কক্ষই যুদ্ধ চালানোর ‘ছাড়পত্র’ দিয়ে দেওয়ায় ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। সেই কারণেই সামগ্রিক পরিকল্পনার অঙ্গ হিসাবে স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরানো হচ্ছে।

Advertisement

যদিও অন্য আরও একটি অংশের দাবি, ক্রিস্টির কাজ নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই ক্ষুব্ধ ছিলেন ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যেরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি মেনে চলছেন না ক্রিস্টি। আবার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন আধিকারিকদের গুলিতে দু’জনের মৃত্যুর পরেও কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন ক্রিস্টি। এই পরিস্থিতিতে বিতর্ক এড়াতেই তাঁকে সরানো হল বলে মনে করছেন অনেকে।

এটা ঠিক যে, ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত আমেরিকার হবু স্বরাষ্ট্রসচিব মুলিন। তাঁর উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করেছেন ট্রাম্প। অতীতে প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুলিনের কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ট্রাম্প লেখেন, “উনি আমাদের সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখতে, অভিবাসী এবং অবৈধবাসীদের অপরাধ দমনে ক্লান্তিহীন ভাবে কাজ করবেন।” সমাজমাধ্যমের পোস্টে ‘মেক আমেরিকা সেফ এগেন’ (আমেরিকাকে আবার সুরক্ষিত করো) স্লোগানও দিয়েছেন ট্রাম্প। মনে করা হচ্ছে, নিজের কঠোর সীমান্তনীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই আস্থাভাজন মুলিনকে আমেরিকার পরবর্তী স্বরাষ্ট্রসচিব হিসাবে বেছে নিলেন ট্রাম্প।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement