Donald Trump on Greenland

‘জাতীয় নিরাপত্তার’ কথা বলে ফের গ্রিনল্যান্ড দখলের আওয়াজ তুললেন ট্রাম্প! হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন: ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী

রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এখন এটা কৌশলগত ব্যাপার।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।”

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০২
Share:

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

গ্রিনল্যান্ড চাই-ই চাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ফের একবার বিশ্বের বৃহত্তম ওই দ্বীপ দখল করার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন তিনি। ভেনেজ়ুয়েলার পর গ্রিনল্যান্ড দখল করতেও ট্রাম্প সামরিক অভিযান চালাবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন গ্রিনল্যান্ডের ‘অভিভাবক’ ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন। ট্রাম্পকে তাঁর বার্তা, হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন।

Advertisement

রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এখন এটা কৌশলগত ব্যাপার।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।” কেন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের উপর কর্তৃত্ব আরোপ করা প্রয়োজন, তা-ও ব্যাখ্যা করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, গ্রিনল্যান্ডের সর্বত্র রাশিয়া এবং চিনের জাহাজ ঘোরাফেরা করছে।

ডেনমার্ক আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোর সদস্য। ঐতিহ্যগত ভাবেই ডেনমার্ক দীর্ঘ দিন ধরে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ। সেই ঘনিষ্ঠতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, “আমেরিকার কাছে আমার আর্জি ঘনিষ্ঠ সঙ্গীকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন।” একই সঙ্গে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “যে দেশ বা যে দেশের মানুষ বলছেন, আমরা বিক্রি হব না, তাঁদেরও হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন।” ঘটনাচক্রে, নেটোর সদস্যরাষ্ট্র জার্মানি এই বিষয়ে মুখ খুলেছে। গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে নেটোর অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলির সঙ্গে তাদের আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছে বার্লিন।

Advertisement

ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৫৬ হাজার জনসংখ্যার ‘বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ’ প্রায় ৩০০ বছর ধরে কোপেনহাগেন (ডেনমার্কের রাজধানী)-এর নিয়ন্ত্রণে। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিচালনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ পালন করেন। আর বিদেশ এবং প্রতিরক্ষানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি নেয় ডেনমার্ক সরকার। দ্বিতীয় দফায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে ট্রাম্প গত ১১ মাসে একাধিক বার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গত ডিসেম্বরেই আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘গ্রিনল্যান্ডের দিকে যদি এক বার তাকান, তা হলে দেখবেন উপকূলের উপরে এবং নীচে সর্বত্র রাশিয়ান ও চিনা জাহাজ রয়েছে। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তাই এটি প্রয়োজন।’’ প্রসঙ্গত, গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারপর্বে গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প । দ্বিতীয় বার হোয়াইট হাউসের ‘দখল’ নিশ্চিত হওয়ার পরে দিয়েছিলেন বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারিও। সে সময়ে রিপাবলিকান নেতার ওই হুমকির প্রতিবাদ করেছিল ডেমোক্র্যাটরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement