(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পাকাপাকি ভাবে হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে জানালেন, ইরানে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করতে রাজি হয়েছে বেজিং। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি বেজিং যাবেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
বুধবার সন্ধ্যায় (ভারতীয় সময়) সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘চিনের জন্য এবং গোটা দুনিয়ার জন্য হরমুজ় প্রণালী পাকাপাকি ভাবে খুলে দিচ্ছি। চিন এতে খুব খুশি। আর কখনও এই পরিস্থিতি তৈরি হবে না। ইরানে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করতে চিন রাজি হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমি চিনে যাব এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তখন আমাকে নিবিড় আলিঙ্গন করবেন।’’ চিন সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘আমরা একসঙ্গে দারুণ কাজ করছি। এতে কি লড়াই হার মানছে না? কিন্তু মনে রাখবেন, আমরা লড়াই করতে খুব ভাল পারি। যদি দরকার পরে, সকলের চেয়ে ভাল লড়াই আমরা করতে পারি।’’ ট্রাম্পের এই দাবি প্রসঙ্গে বেজিং এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত শনিবার ইসলামাবাদে ইরান এবং আমেরিকার প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেছিলেন। কিন্তু ২১ ঘণ্টার সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। দুই দেশ সমঝোতায় আসতে পারেনি। ফলে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। এর পরেই ট্রাম্প ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ শুরু করবে আমেরিকা। ইরানের বন্দর হয়ে আসা বা ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়া কোনও জাহাজকে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার চিন চার দফা প্রস্তাব দেয়। আবু ধাবির যুবরাজের কাছে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেন চিনের প্রেসিডেন্ট। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার নীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং আন্তর্জাতিক আইন কঠোর ভাবে মেনে চলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জিনপিং। এর পরেই বুধবার চিনের উদ্দেশে এল ট্রাম্পের পোস্ট। দেশটির সঙ্গে মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলার ইঙ্গিত দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
গোপনে ইরানকে যুদ্ধের জন্য অস্ত্রের জোগান দিয়ে চিন সাহায্য করছে বলে আমেরিকা অভিযোগ তুলেছিল। আলোচনার মাধ্যমে সে বিষয়ে চিনের সঙ্গে সমঝোতা হয়ে গিয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ‘পাকাপাকি ভাবে হরমুজ় খুলে দেওয়া’ বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করলে সে দেশের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী হরমুজ়ে জ্বালানি পরিবহণকারী জাহাজগুলিকে বাধা দেয়। তবে প্রথম থেকেই চিন এবং রাশিয়ার জাহাজকে তারা ছাড় দিয়ে আসছিল বলে খবর। সেই চিনের জন্য কী ভাবে নতুন করে ট্রাম্প হরমুজ় খুলে দিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।