ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।
ইরান সাহায্য করুক বা না করুক, শীঘ্রই খুলে যাবে হরমুজ় প্রণালী। শুক্রবার (আমেরিকার সময়ে) সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, কাজটা ‘খুব সহজ নয়’। পাকিস্তানে শান্তি বৈঠকে যোগ দিতে শুক্রবার রাতেই পৌঁছে গিয়েছে ইরানের প্রতিনিধি দল। তারা কিছু পূর্বশর্তও মনে করিয়ে দিয়েছে। সেই আবহে ট্রাম্প জানিয়ে দেন হরমুজ় খুলবে শীঘ্রই।
শুক্রবার মেরিল্যান্ডে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে চাপার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, হরমুজ় শীঘ্রই খোলা হবে। ইরান সাহায্য না করলেও সেই কাজ করা হবে। তাঁর আরও দাবি, এই কাজে ‘সাহায্য’ করবে অন্য দেশও। তাঁর কথায়, ‘‘কাজটা সহজ নয়। আমি বলব, খুব শীঘ্রই ওই পথ খুলব।’’ তবে সেই কাজ তিনি কী ভাবে করবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে ইতি টানা নিয়ে সমঝোতা হলেও হরমুজ় পারাপারের জন্য জাহাজগুলির থেকে শুল্ক আদায় করতে পারে তারা। ট্রাম্প যদিও অনড়, শুল্ক ইরানকে নিতে দেবেন না। মেরিল্যান্ডে বিমান ধরার আগে তিনি বলেন, ‘‘ওরা তা করতে চাইলে আমরা করতে দেব না।’’ তিনি এ-ও জানিয়েছেন, ইরানের হাতে যাতে পরমাণু অস্ত্র না থাকে, সেটাই নিশ্চিত করতে চায় আমেরিকা। আর তাতেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে তারা। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না। ৯৯ শতাংশ এটাই হবে।’’
নিউ ইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তেহরানকে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমরা জাহাজগুলিতে সবচেয়ে শক্তিশালী গোলাবারুদ, এখনও পর্যন্ত তৈরি হওয়া সেরা অস্ত্র বসাচ্ছি। এমনকি আগের বার যা করেছিলাম, তার চেয়েও ভাল। যদি চুক্তি না হয়, এ বার আমরা তাদের ধ্বংস করে দেব।’’ শনিবার নিজের সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘ইরান কোনও সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। তারা শুধু আন্তর্জাতিক জলপথের মাধ্যমে বিশ্বে তোলাবাজি করতে পারে। কেন তা হবে?’’
যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসাবে ইরান প্রাথমিক ভাবে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর (আরব সাগরের অংশ) সংযোগরক্ষাকারী হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজের অবাধ যাতায়াতে সম্মতি দিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার তেহরান জানায়, হরমুজ় প্রণালীর উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি পর্বে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ ওই জলপথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। এবং তার জন্য দিতে হবে শুল্ক। যাকে ট্রাম্প সরাসরি ‘তোলাবাজি’ বলে চিহ্নিত করেছেন।