মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।
ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা আদৌ শুরু হবে কি? তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদিও হয় কবে হবে? প্রশ্ন উঠছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদী। পাশাপাশি এ-ও জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ‘কোনও সময়ের চাপ নেই’!
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ইরান-আমেরিকার দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠক আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে। তবে ট্রাম্প জানান, এই দাবি ‘সত্যি নয়’। ফক্স নিউজ়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আলোচনার জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কোনও তাড়াহুড়ো নেই।’’ তবে হরমুজ় প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ নিয়ে ট্রাম্প মনে করেন, এই অবস্থান বোমা হামলার চেয়ে বেশি কার্যকর। তিনি এ-ও জানান, আমেরিকার মানুষের জন্য যেটা সবচেয়ে ভাল, তা বিবেচনা করেই চুক্তি হবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তবে ইরানের বন্দরগুলিতে মার্কিন নৌসেনার অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে বলে মঙ্গলবার গভীর রাতে (ভারতীয় সময়) জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের ঘোষণা— ‘‘পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াচ্ছে আমেরিকা।’’ কিন্তু মার্কিন সেনার হরমুজ় ‘অবরোধ’ রাখায়, ইরানও সেখান থেকে সরতে নারাজ। তাদের দাবি, আমেরিকা হরমুজ় থেকে সরলে তবেই তারা প্রণালী খুলবে।
ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্বের রেশ পড়েছে হরমুজ়ে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর পরই ইরান হরমুজ় ‘অবরোধ’ করে। তারা স্পষ্ট জানায়, কোনও জাহাজ ওই জলপথ পার করতে দেবে না। কেউ পার করার চেষ্টা করলে, হামলা চালানো হবে। তবে পরে ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে হরমুজ়ে ছাড় দেয় ইরান। তার পর থেকে কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় পেরিয়ে ভারতে এসেছে। তবে ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকার শান্তিবৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে হরমুজ়ে। ইরান-আমেরিকার মধ্যে টানাপড়েনের কারণে হরমুজ় এখনও প্রায় ‘অচল’। কিছু কিছু দেশের পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ় দিয়ে যাতায়াত করছে। তবে অবাধ যাতায়াত এখনও সম্ভব নয়।