ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়েছে গত বৃহস্পতিবার। তার পরেই পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধিতে নজর দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’-এর একটি প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে যে, পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করার পথেও হাঁটতে পারে পেন্টাগন (আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতরের সদর দফতর যেখানে অবস্থিত)।
গত ৪০ বছর ধরে পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। এই নিয়ন্ত্রণবিধি অনুসারে পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা পেন্টাগন হয় কমাবে। নয়তো নতুন করে এই অস্ত্রের সংখ্যা আর বৃদ্ধি করবে না। নিউ ইয়র্ক টাইম্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের আমেরিকার পরমাণু অস্ত্রবহর বৃদ্ধি করতে চলেছেন।
সাম্প্রতিক অতীতে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, আমেরিকার অস্ত্রভান্ডারে পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প নিজেও তাঁর ঘনিষ্ঠদের পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু কী ধরনের অস্ত্র পরীক্ষার কথা বলা হচ্ছে, নতুন অস্ত্র কোথায় মোতায়েন করা হবে, সেই বিষয়ে কিছুই জানায়নি পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস। তাই এই বিষয়ে বিভ্রান্তি বেড়েছে।
রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ অনুসারে, দুই দেশই ১৫৫০টি পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে। তবে ১৫ বছরের মেয়াদ ফুরোনোর পর এই চুক্তির পুনর্নবীকরণ না-হওয়ায় এই সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা দুই দেশেরই রইল না। অন্য দিকে, ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি তো বটেই, বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যেরাও মনে করছেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের দায় আমেরিকার একার নয়। তাদের বক্তব্য, আমেরিকা এ ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চললেও ক্রমশ পরমাণু অস্ত্র বৃদ্ধির পথে হাঁটছে রাশিয়া এবং চিন। এই পরিস্থিতিতে বেজিং এবং মস্কোকে কঠোর বার্তা দিতেই ট্রাম্প পরমাণু অস্ত্র বৃদ্ধির পথে হাঁটতে চলেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।